Aaj lndia Desk,হুগলি: বুধবার সকালেই মনোনয়ন জমা দিয়ে হুগলির মাটিতে প্রচারে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু রাজনৈতিক বার্তার মাঝেই আচমকা ছন্দপতন শ্রীরামপুরের জনসভায় মঞ্চেই শট সার্কিট।
বক্তৃতার মাঝপথে হঠাৎই থেমে যেতে বাধ্য হন তিনি। মাইক্রোফোনে গোলযোগ, মঞ্চে বিদ্যুৎ সমস্যার জেরে তৈরি হয় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সেখানেই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন ব্যবস্থাপনা নিয়ে।তবে এখানেই শুরু বিতর্ক এত বড় জনসভা, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি, তবুও নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় এমন গাফিলতি কেন?নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও অব্যবস্থা বা অদৃশ্য দায়িত্বহীনতা? বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই কটাক্ষ ছুঁড়েছে “যেখানে মঞ্চই সুরক্ষিত নয়, সেখানে শাসনের স্থায়িত্ব কতটা?” নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ। আর এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন এটা কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি ভোটের আগে আরও বড় অস্বস্তির ইঙ্গিত?
হুগলির আরামবাগে দিনের প্রথম জনসভা দিয়ে শুরু, তারপর বলাগড় পেরিয়ে শেষ গন্তব্য শ্রীরামপুর টানা প্রচারের সূচি মেনেই এগোচ্ছিল দিনটি। সবকিছুই ছিল পরিকল্পনা মতো কিন্তু শেষ মুহূর্তে এল অপ্রত্যাশিত মোড়। মঞ্চে তখন বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ঠিক সেই সময় দর্শকাসনের এক কোণায় হঠাৎই দেখা গেল আগুনের ফুলকি ।মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য, ভিড়ের মধ্যে তৈরি হয় উত্তেজনা। কেউ উঠে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। নিরাপত্তা ঘিরে উদ্বেগ বাড়তেই মঞ্চেই থেমে যায় বক্তব্য পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে বক্তৃতা বন্ধ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বার্তার মাঝেই এই হঠাৎ স্পার্ক যেন বড় প্রশ্ন তুলে দিল এত বড় জনসভায় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর প্রস্তুতি কি যথেষ্ট ছিল? দিনভর প্রচারের শেষে এই ঘটনার রেশ এখন রাজনৈতিক মহলে দুর্ঘটনা, না কি অব্যবস্থার ইঙ্গিত?
বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি “কারও একজনের পায়ে লেগেছে মনে হচ্ছে এসব মিটিংয়ে কেয়ার নেওয়া হয় না কেন? সিকিউরিটি দেখার লোক নেই। ইলেকট্রিসিটি ভালো নয়। যে করেছে, তার উদ্দেশ্য ভালো নয়।”
তাঁর কথাতেই ফুটে ওঠে ক্ষোভ ও উদ্বেগ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর, নাকি আরও বড় কোনও গাফিলতি?কিছুক্ষণ বিরতির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের মঞ্চে ফিরে বক্তব্য শুরু করেন তিনি।তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই ঘটনার দায় কার? আর ভোটের মুখে এমন ত্রুটি কতটা উদ্বেগের?
ঘটনার পরেই সামনে আসছে কারণের ইঙ্গিত। জানা গিয়েছে, মূল মঞ্চের ঠিক সামনে দর্শকদের বসার জন্য তৈরি করা জায়গাতেই ছিল সমস্যার সূত্রপাত।একটি পোস্টে থাকা দুটি বৈদ্যুতিক তারের মধ্যে সংঘর্ষ থেকেই বেরোয় আগুনের ফুলকি।পাশাপাশি, একটি খোলা বৈদ্যুতিক বক্স থেকেও শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনাটি আপাতত প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলেই মনে হলেও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন উঠছেই এত বড় জনসভায় কেন ছিল খোলা বৈদ্যুতিক বক্স? নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে এমন গাফিলতি কীভাবে রয়ে গেল?আপাতত এটাকে দুর্ঘটনা বলা হলেও, তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে ।


