30 C
Kolkata
Wednesday, April 8, 2026
spot_img

ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই তেলের দামে ধস, স্বস্তিতে গোটা বিশ্ব 

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কিন্তু নাটকীয়ভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। আচমকাই দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন তিনি। আর এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে বড়সড় প্রভাব -তেলের দামে উল্লেখযোগ্যভাবে পড়তে শুরু করে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯.৭৭ ডলার থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৯৫.০৬৮ ডলারে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত কমে গেছে। এই যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্য হল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ‌ হরমুজ প্রণালী-তে পুনরায় স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল চালু করা।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম কমার পাশাপাশি বন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং মার্কিন শেয়ার বাজারে জোরদার উত্থান লক্ষ্য করা যায়। বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে তেল সরবরাহ আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।

কেন হঠাৎ তেলের দাম বেড়েছিল?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জেরে তেহেরান (Tehran) কার্যত হরমুজ প্রণালী-তে নিয়ন্ত্রণ কড়া করে দেয়। এর ফলে তেলের ট্যাঙ্কারগুলি এই রুট এড়াতে শুরু করে। একইসঙ্গে বিমা খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে মার্চ মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।

তবে বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, হামলা বন্ধ থাকলে আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালী‌ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। এই ইতিবাচক অবস্থানের ফলে বাজারে আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) শুধুমাত্র একটি সামুদ্রিক পথ নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির লাইফলাইন। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত -এই দেশগুলোর অধিকাংশ তেল এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। ফলে সামান্য বিঘ্নও দামের বড় ওঠানামার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন পথটি খুলে যাওয়ার সম্ভাবনায় সরবরাহ সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই স্বস্তি আপাতত সাময়িক। কারণ যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনায় ভাঙন ধরলে তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে। তবে এই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে একটাই আশা-জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময় হয়তো ইতিমধ্যেই পেরিয়ে এসেছে।

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন