Aaj lndia Desk, কলকাতা: জিতের হাত ধরে বড় পর্দায় ঝড় তারপর দেবের সঙ্গেও হিট, তবু এখন রুপোলি পর্দা নয়, রাজনৈতিক ময়দানেই বেশি দেখা যায় তাঁকে। একসময় টলিউডের পরিচিত মুখ, এখন জনতার প্রতিনিধি বরানগর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে আলোচনার কেন্দ্রে এবার অভিনয় নয় প্রশ্ন একটাই, ঠিক কত সম্পত্তির মালিক এই তারকা-রাজনীতিক?স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ-এ। সেখানে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে বইয়ের পাতায় আটকে থাকেননি তিনি ক্যামেরার সামনে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন টলিউডে। আর সেই আলোঝলমলে দুনিয়া থেকেই একসময় পা রাখেন রাজনীতির ময়দানে, যেখানে এখন তাঁর লড়াই একেবারেই অন্য রকম।নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বলছে, ঝকঝকে পর্দার তারকা হলেও আর্থিক ছবিটা বেশ চমকে দেওয়ার মতো সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ক্ষেত্রে।
হাতে নগদ মাত্র ৩০ হাজার টাকা। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেও বেশিরভাগই প্রায় ফাঁকা। একটি অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৯ লক্ষ ১৫ হাজার ৭১৭ টাকা এটাই মূল সঞ্চয়। অন্য একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩৫ হাজার, আরেকটিতে ১০ হাজার টাকা। আরও একটি অ্যাকাউন্টে মাত্র ১ হাজার টাকা পড়ে আছে। আর বাকি দুটি অ্যাকাউন্ট? সেখানে ব্যালেন্স একেবারে শূন্য।গ্ল্যামারের আড়ালে এই সংযত আর্থিক চিত্রই যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তারকার জীবন কি সত্যিই এতটা ঝলমলে?
ঝলমলে ক্যারিয়ার, কিন্তু সম্পদের খাতায় ছবি একেবারেই ভিন্ন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হিসেব যেন অনেকটাই সংযত।কোনও বড় বিনিয়োগ নেই তাঁর নামে। অস্থাবর সম্পত্তি বলতে মূল ভরসা একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি যার মূল্য প্রায় ৩১ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। সঙ্গে রয়েছে সামান্য সোনার গহনা, মাত্র ৩.৫২ গ্রাম, যার দামও খুব বেশি নয়। সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পত্তির অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪১.৮৭ লক্ষ টাকা।তবে আরও চমক অপেক্ষা করছে নিজের নামে নেই কোনও বাড়ি, নেই জমি, এমনকি পৈত্রিক সম্পত্তিও নয়। উল্টে রয়েছে ঋণের চাপ। গাড়ির লোনই প্রায় ২৬.৬৮ লক্ষ টাকা, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ।আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন অভিনয় আর জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। তার বাইরে আর কোনও সম্পত্তি বা আয়ের উৎস নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, গ্ল্যামারের আড়ালে একেবারে অন্য এক বাস্তব যেখানে হিসেবটা অনেকটাই সীমিত, আর দায় অনেক বেশি।


