Aaj India Desk, নয়াদিল্লি : সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার আগেই ফের স্পিকারকে (Speaker) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
স্পিকারকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
এই পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার (Speaker) ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে চলেছে তৃনমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের খবর, দলের প্রধান মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে কংগ্রেসসহ বিরোধী শিবিরের সঙ্গে একযোগে এই প্রস্তাবে সমর্থন জানাবেন তৃণমূলের সাংসদরা। সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
কংগ্রেসের উদ্যোগে অনাস্থা নোটিস
গত মাসে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের উদ্যোগে একাধিক বিরোধী দল লোকসভার স্পিকার (Speaker) ওম বিড়লাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে নোটিস জমা দেয়। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সূত্রের খবর, সেই নোটিসে ইতিমধ্যেই প্রায় ১১৮ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সংসদের দুই কক্ষেই তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে লোকসভায় বিরোধী দলের বক্তব্য বারবার আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধী শিবিরের ক্ষোভ চরমে ওঠে। সেই ঘটনার পরেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দেওয়া হয়। লোকসভা সচিবালয় ওই নোটিস গ্রহণ করলে কিছুদিন স্পিকারের আসনে না বসে অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব প্যানেল অফ চেয়ারপার্সনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি। দলীয় নেতৃত্ব তখন জানিয়েছিল, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য স্পিকারকে কিছু সময় দেওয়া উচিত। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে একযোগে অবস্থান নেওয়ার পথে হাঁটল তৃণমূল।
ভোটের আগে নতুন কৌশল
সামনেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাদের মতে, তৃনমূল কংগ্রেস সংসদের মঞ্চে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইছে। তাই ওম বিড়লার (Om Birla) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যৌথ অবস্থান নিচ্ছে তারা। এতে একদিকে যেমন বিরোধী ঐক্যের বার্তা যাবে, তেমনই ভারতীয় জনতা পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


