22 C
Kolkata
Saturday, March 21, 2026
spot_img

কিসের টাকায় ‘পাল্টানোর’ সুর চড়াচ্ছে বিজেপি ? প্রতিশ্রুতির বন্যার উৎস কী ?

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে রাজনীতির তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এখন ভোটের প্রস্তুতি, প্রতিশ্রুতি ও প্রচারণার মধ্যেই আবদ্ধ জনগণ। কিন্তু এই আলোচনার বাইরেও রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে রয়ে গিয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজনৈতিক দল

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক দল বিজেপি (BJP) বর্তমানে ভারতের সবথেকে ধনী রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালে বিজেপির স্থায়ী সম্পদ ছিল মাত্র ৮৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১২,৮৯,৯৮,২২,৩২৩ টাকা। নগদ অর্থও ৭০০ কোটি থেকে সাত হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে বিজেপি নয় হাজার কোটির মালিক। এক দশকের মধ্যে এই রাজনৈতিক দলের আর্থিক পরিসর প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোথা থেকে আসে এই টাকা ?

ইলেকশন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে বহুজাতিক কোম্পানির দান থেকে। উদাহরণস্বরূপ, টাটার সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের জন্য সরকার ৪৪,০০০ কোটি টাকার সহায়তা অনুমোদনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টাটা বিজেপিকে ৭৫৮ কোটি টাকা দান করে। এই প্রবণতা অন্যান্য বড় প্রকল্প এবং শিল্প বিনিয়োগেও দেখা গেছে। ২০২৩–২৪ সালে বিজেপি প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা দান সংগ্রহ করেছে।

প্রকল্প বনাম প্রচারণা ?

সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা এই বিপুল অর্থ দেশের প্রকল্পের খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলেই জানানো হয়। কিন্তু ADR (Association for democratic reforms) এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্পত্তির পাশাপাশি বিজেপির (BJP) নির্বাচনী খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে খরচ ছিল ৭১৪ কোটি, ২০১৯ সালে ১,২৬৪ কোটি এবং ২০২৪–২৫ সালে প্রায় ৩,৩৩৫ কোটি। সূত্রের খবর, ‘বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও’ জাতীয় প্রকল্পগুলির বরাদ্দের প্রায় ৮০% প্রকৃত উন্নয়নের বদলে সেই প্রকল্পের পিআর অর্থাৎ মিডিয়া ও জনসংযোগ খাতে যায়।

রাজনৈতিক স্বচ্ছতার অভাব

আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে আবার একাধিক প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছে বিজেপি (BJP)। তবে ভারতের তথ্য অধিকার আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই প্রতিশ্রুতিগুলির আর্থিক উৎস ঠিক কোথায় এবং কিভাবে আসছে তা নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা। ভোটের আগে রাজনৈতিক দান, প্রকল্প অনুমোদনের গতি এবং নির্বাচনী ব্যয় একসাথে বিচার করলে, রাজনৈতিক স্বচ্ছতার অভাবই সামনে আসে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলির দানের এই প্রবাহ এবং প্রকল্প অনুমোদনের গতি রাজনৈতিক স্বচ্ছতার সঙ্গে আদৌ খাপ খায় নাকি এটি কেবল ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’-এর সরল হিসেব তা নিয়ে রয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন