Aaj India Desk, কলকাতা : সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন। নির্ধারিত ৩১ মার্চের আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর টাকা হাতে পেলেও প্রাপ্য টাকার পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে কর্মীদের একাংশের মধ্যে।
সরকারি ঘোষণায় কী বলা হয়েছিল?
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে বকেয়া DA মেটানোর কথা জানান। রাজ্যের অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA মেটানোর কথা ছিল দুই কিস্তিতে, মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে। তবে পরে সিদ্ধান্ত বদলে একক কিস্তিতে পুরো বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। গ্রুপ A, B, C কর্মীদের ক্ষেত্রে GPF অ্যাকাউন্টে এবং গ্রুপ D কর্মীদের ক্ষেত্রে সরাসরি বেতন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
কেনো অসন্তুষ্ট কর্মীরা ?
শীর্ষ আদালত অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া DA মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কর্মীদের অভিযোগ, বাস্তবে সেই পরিমাণও মিলছে না। সংগঠনগুলির দাবি, অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী যে হিসাব হওয়ার কথা, তা মানা হচ্ছে না। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের কথায়, “যেখানে ১০০ টাকা পাওয়ার কথা, সেখানে ৫৩ টাকা দেওয়া হচ্ছে।” এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে অসন্তোষ বাড়ছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে।
তবে নবান্ন থেকে দাবি, বড় অঙ্কের বকেয়া DA একসঙ্গে পরিশোধ করলে রাজ্যের কোষাগারের উপর চাপ পড়তে পারে। তাই সরকার ধাপে ধাপে বা কম পরিমাণে পরিশোধের পথ বেছে নিয়েছে।
রাজ্য সরকার ও কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে DA বকেয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। আদালতের নির্দেশে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ থামছে না। কর্মচারী সংগঠনগুলি শীঘ্রই অর্থ দফতরে চিঠি দিয়ে সঠিক হিসাব অনুযায়ী বকেয়া দেওয়ার দাবি জানাতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে সরকারকে একদিকে কর্মচারীদের কিছুটা সন্তুষ্ট রাখা, অন্যদিকে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখার ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। তাই সম্পূর্ণ বকেয়া একসঙ্গে না দিয়ে ‘ম্যানেজড পেমেন্ট’ কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। তবে এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের সন্তুষ্ট করতে পারবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।


