Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচনের আবহে কিছুদিন আগেই বিজেপিতে যোগদান করেন ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Narayan Bandyopadhyay)। এর মাঝেই তাঁর পুরনো বক্তব্য সামনে এনে তাঁকে ‘পাল্টিবাজ’ বলে কটাক্ষ করে বিতর্কের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুরনো ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক
সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেন নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Narayan Bandyopadhyay)। এর পরেই কয়েক বছর আগের একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে তিনি বিজেপি এবং ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর সমালোচনা করেছিলেন। সেই ভিডিও শেয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ‘পাল্টিবাজ’ শব্দ ব্যবহার করেন।
এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে বিরোধী শিবির থেকে তৃণমূলে যোগদানকারী নেতাদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষ্য সামনে আসায় দলবদল শুধুই রাজনৈতিক সুবিধাবাদের মাপকাঠিতে বিচার করা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন সিপিএম নেতা প্রতীক উর অতীতে তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই সময় তাঁকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন এই দলবদলকে ‘ভুল বুঝতে পেরে সংশোধন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
দ্বৈত বয়ানে প্রকাশ্য দ্বিচারিতা ?
ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন রাজনৈতিক বয়ান তৈরি হওয়া নতুন নয়, তবে তা প্রকাশ্যে এত স্পষ্টভাবে ধরা পড়লে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তৈরি হয়। একই ধরনের ঘটনায় একদিকে নারায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Narayan Bandyopadhyay) ‘পাল্টিবাজ’ আখ্যা, অন্যদিকে প্রতিকুরকে ‘স্বাগত’ জানানোর এই দ্বৈত অবস্থান রাজনৈতিক বার্তার ধারাবাহিকতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে। আরও বড় প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক নীতির স্থায়িত্ব নিয়ে। যদি কোনও ব্যক্তি একটি দলের নীতির সমালোচনা করার পর সেই দলে যোগ দেন, তাহলে তা কি আদর্শগত পরিবর্তন, নাকি পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্ত, এই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’র অভিযোগে আক্রমণ করছে।
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি, তবে ভোটের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে এই বিতর্ক যে সহজে থামার নয়, তা স্পষ্ট।


