Aaj India Desk, কলকাতা : তিলোত্তমার (Tilottama) মৃত্যুকে ঘিরে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল রাজ্য। ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। এখনও সেই ন্যায়বিচার মেলেনি। অথচ তার আগেই সেই মৃত্যু হয়ে উঠেছে রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
ন্যায়বিচারের দাবির আড়ালে রাজনীতি ?
সম্প্রতি তিলোত্তমার (Tilottama) মা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চান এবং প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি চাই না আমার মেয়েকে ভোটের জন্য ব্যবহার করা হোক। তাই আমি নিজেই রাজনীতিতে আসতে চাই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্নীতি ও মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করতে চাই। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে একমাত্র বিজেপিই।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সরাসরি অভিযোগ করেন, “এই ধরনের কথা আরএসএসের শেখানো। এমন সংবেদনশীল ঘটনায় কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ নেওয়া উচিত নয়।” তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর প্রথম থেকেই সিপিএম আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসে এবং বিষয়টি জনসমক্ষে তোলে।
এক ঘটনার একাধিক রাজনৈতিক বয়ান
একটি মর্মান্তিক অপরাধের ঘটনাকে ঘিরে স্রেফ ভোট ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা রাজনৈতিক বয়ান তৈরি হয়েছে। একদিকে শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ তুলে বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, আবার অন্যদিকে তিলোত্তমার পরিবার নিজেই রাজনৈতিক ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ঘটনাটিকে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ের অংশ করে তুলছে। ফলে নিবার্চনের আগে তিলোত্তমার (Tilottama) মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে যে রাজনৈতিক অবস্থান ও পাল্টা অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। সমালোচকদের একাংশের দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই এমন সংবেদনশীল ঘটনার শিকার পরিবারকে সামনে এনে জনমত গঠনের চেষ্টা করেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘রাজনীতিকরণ’ নিয়ে যে বিতর্ক, তা পুরনো প্রবণতারই পুনরাবৃত্তি। তিলোত্তমার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখনও প্রধান হলেও, বাস্তবে তা এখন রাজনৈতিক ময়দানের কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কে এই ঘটনাকে ব্যবহার করছে, আর কে ন্যায়বিচারের লড়াই চালাচ্ছে তা নিয়ে মতভেদ তীব্র। প্রসঙ্গত, আগের বছরই তিলোত্তমার বিচারের প্রসঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতারা তিলোত্তমার পরিবারের সাথে দেখা না করতে চাওয়ায় তাঁরাই বিজেপির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ সেই দলের হয়েই নির্বাচনে নামলেন তাঁরা।
একটি মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল ঘটনার কেন্দ্রে থাকা একটি পরিবারের সিদ্ধান্ত যখন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই ন্যায়বিচারের লড়াই আড়ালে পড়ে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচকদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্বার্থই প্রাধান্য পাচ্ছে, যা সমাজের বৃহত্তর মূল্যবোধের দিক থেকেও উদ্বেগজনক।


