Aaj India Desk, কলকাতা: ধর্মতলায় পাঁচ দিন ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের ধর্না কর্মসূচি তুলে নেওয়ার ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে “অনেকটা বিচার পাওয়া গিয়েছে” এবং “বিচারের দরজা খুলেছে” বলেই আপাতত এই কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ধর্নামঞ্চে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে তাঁরা রাস্তায় বসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি সভায় উপস্থিত সকলের মতামত নিয়েছেন এবং তাঁর প্রস্তাবেই ধর্না তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ধর্না আজকের মতো তুলে নেওয়া যায় কি না। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকেরা সমস্বরে সম্মতি জানান।
ধর্না কর্মসূচির কারণে আশপাশের দোকানদার, ব্যবসায়ী এবং হোটেল মালিকদের অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনাদের আমরা কয়েক দিন ব্যস্ত করেছি। কখনও কখনও শব্দে আপনাদের অসুবিধা হয়েছে। আমারও সারা রাত বিভিন্ন আওয়াজে কান ঝালাপালা হয়েছে, তবে আন্দোলনের স্বার্থে সেটি বড় বিষয় নয়।”
এ সময় তিনি অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলেন। মমতা বলেন, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তিনি একই জায়গায় ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। তাঁর দাবি, সেই সময় যিনি জোর করে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন, বর্তমানে তাঁকেই নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর তৃণমূলের রাজনৈতিক উত্থানও ধর্মতলার এই মঞ্চ থেকেই শুরু হয়েছিল। তাঁর কথায়, “ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। ভবিষ্যতেও মানুষ তার সাক্ষী থাকবে।”
ধর্না প্রত্যাহারের ঘোষণা করার পাশাপাশি মমতা জানান, তিনি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যপাল কয়েক দিন ধরে এলাকায় ছিলেন এবং আগামীকাল চলে যাবেন, তাই সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, “মানুষ যেন তাঁদের অধিকার পান, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। যে দরজাটা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেটি এখন অনেকটাই খোলা হয়েছে। মানুষ সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন।”


