নয়াদিল্লি ও জেরুজালেম: বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেনেটে নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) বক্তব্যের চারদিনের মাথায় আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথ বাহিনীর হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আল খামেইনি। শনিবার সকাল থেকে ইরানে হামলা শুরু করে ইজরায়েলি সেনা (Iran-Israel War)। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের বিষয়ে কোনও ধারণাই ছিল না ভারতের, বিরোধীদের কটাক্ষের ঝড়ে অস্বস্তি বাড়ে সাউথ ব্লকের।
ইতিমধ্যেই ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের (Iran-Israel War) সম্পর্কে কোনও ধারণা না থাকাকে মোদী সরকারের ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ বলে দুষতে শুরু করেছে বিরোধীরা। এই বিষয়ে মোদীর (Narendra Modi) সফরের সঙ্গে ইরানে হামলার কোনও সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানালেন ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত। যান গিয়েছে, ভারতে নিযুক্ত ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভান আজ়ার জানিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদী ইরান ছাড়ার দু-দিন পর ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় নেতানিয়াহু সরকার।
এমনকি যুদ্ধের বিষয়ে নরেন্দ্র মোদীর অঙ্গে কোনও কথাই হয়নি বলেও জানান ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূতের কথায়, “মোদী চলে যাওয়ার পর আমাদের কাছে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এসেছিল। সফরের সময় আমরা আঞ্চলিক নানা বিষয়ে আলোচনা করেছি, তবে যা আমরা আগে জানতাম না সে বিষয়ে আলোচনা হয়নি।” অর্থাৎ, মোদীর স্বফরকালে ইরানে হামলার পরিকল্পনাই ছিল না, বলে দাবী করে ইজরায়েল।
অস্বস্তিতে ছিল মোদী সরকার
বস্তুত, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে আগাম কোনও খবর না থাকা নিয়ে আগেই সুর চড়িয়েছিল বিরোধীরা। সেই ঘটনার পর নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরের ঠিক পরপরই ইরানের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধ (Iran-Israel War)। অথচ, এই বিষয়েও কিছু জানত না নয়াদিল্লি! এই ঘটনাক্রম নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি বেড়েছে মোদী সরকারের। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দেশ, বিদেশে একাধিক সফর করলেও আদপে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ ফুটে উঠছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
অন্যদিকে, আমেরিকা যুক্ত থাকায় খামেইনির মৃত্যু হোক, বা ইরান ইজরায়েল যুদ্ধ, কেন্দ্র সরকারের মৌনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এমনকি নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদীর ফোনালাপ নিয়েও কটাক্ষ করে কংগ্রেস। এই আবহে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বার্তা ঘরোয়া রাজনীতিতে মোদী সরকারকে সাময়িক স্বস্তি দেবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


