কলকাতা: ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই ময়দানে নামছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)। রাজ্যে দুই দফায় মত ৪৮০ কোম্পানির বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। সোমবার বিকেলে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন।
কোন কোন এলাকা সংবেদনশীল?
১ মার্চ ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) রাজ্যে আসছে। ১০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আসবে বাকি ২৪০ কোম্পানি। সংবেদনশীল জায়গায় বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। শুধু তাই নয়, বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনে সংবেদনশীল এলাকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। তারপরেই উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা।
কি বলছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি?
বাহিনী নামানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে! এই বাহিনী কি বিরোধীদের ‘গেমচেঞ্জার’ হবে? কেন্দ্রের নিরাপত্তা-ছত্রছায়ায় কি পেরোনো যাবে ভোটের বৈতরণী? নাকি শেষ পর্যন্ত সংগঠন ও মাটির শক্তিতেই বাজিমাত করবে তৃণমূল কংগ্রেস?
স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনকে সদর্থক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিজেপি। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার বক্তব্য, তৃণমূল ভোটের সময় গুন্ডামি করে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) থাকলে আমজনতা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষপাতি নন সিপিআইআমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের কমিশনের কাছে স্বচ্ছ এবং মুক্ত ভোটের দাবী রাখি।” পাশাপাশি বাহিনীকে ঠিকভাবে কাজ কোর্টে দেওয়া নিশ্চিত করার কোথাও উল্লেখ করেন সুজন। ভোটে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী বলেন, “শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেই সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত হয় না, সেটি ঠিক। কিন্তু যদি প্রকৃত অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে এ বার তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা শূন্য।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিরোধী শিবির এ বার পরিবর্তনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
শাসকদল কি বলছে?
তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েন থাকলেও ভোটের ফলাফলে তার কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “কিছু বিক্ষিপ্ত জায়গায় সামান্য গুন্ডামি বা অশান্তি হয়। কিন্তু তার জন্য এত কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং এই বাহিনী দেখে মানুষ ভয় পায় এবং বিরোধীদের ভোট দিতে সাহস পায় না।” আসন্ন বিধানসভা ভোটেও তৃণমূলই বাজিমাত করবে বলে আত্মবিশ্বাসী জয়প্রকাশ।


