Aaj India Desk, কলকাতা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী জোট INDIA alliance। সূত্রের খবর, এই প্রস্তাবের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছে। তবে এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে সর্বভারতীয় তৃনমূল কংগ্রেস।
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ
বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। তাদের অভিযোগ, বিরোধীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা হচ্ছে না। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন বিরোধী শাসিত রাজ্যে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং রাজ্য পুলিশের রদবদল নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
কলকাতা সফরে বিক্ষোভের মুখে CEC
এদিকে আসন্ন নির্বাচন প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য কলকাতা সফরে এসেও বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় কালো পতাকা দেখিয়ে ও গো ব্যাক স্লোগানের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। সল্টলেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে তাঁর গাড়ির বহর যাওয়ার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, কমিশন নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে না পারা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চলবে। দলের এক নেতা বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার লড়াই চলছে। যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোনও এক দলের পক্ষে কাজ করেন, তাহলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়।”
সংসদে সংখ্যার সমীকরণ
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন এবং তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অপসারণের সমতুল্য। লোকসভা বা রাজ্যসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থনে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে হয়। সূত্র অনুযায়ী, তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদরা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে এমনভাবে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছেন যাতে তা আইনি পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারে। বিরোধী জোটের শরিক দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে তৃণমূল। যদিও সংসদে এই প্রস্তাব পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবুও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করাই বিরোধীদের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই প্রস্তাব আনার চেষ্টা করতে পারে বিরোধীরা। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে তা একটি নজিরবিহীন ঘটনা হতে পারে।


