ঢাকা: শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের (Bangladesh) পট-পরিবর্তন নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছে বাংলাদেশ। ভোটগ্রহণের মাঝে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasreen)।
সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশে বিএনপি জিতলে ইতিহাসে প্রথমবার প্রধান বিরোধী দল হবে জামাত। আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ বলেই এমনটা ঘটবে। আমি আশা করি, নির্বাচিত সরকার আওয়ামী লিগের (Awami League) ওপর থেকে যেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। যাতে দেশটা ধর্মভিত্তিক দলের হাতে না গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বা বামপন্থী শক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।”
X link: https://x.com/taslimanasreen/status/2021833031884189985?s=20
তিনি (Taslima Nasreen) আরও বলেন, “আমি বংশানুক্রমিক রাজনীতি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধী। একটি সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কোনও রাজনৈতিক দলেরই ধর্মকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা উচিত নয়। নীতিগতভাবে যদি কোনো দলকে নিষিদ্ধ করতেই হয়, তবে তা হওয়া উচিত ধর্মভিত্তিক দল। ধর্মনিরপেক্ষ দল নয়।”
বলা বাহুল্য, আগস্টে সংরক্ষণ-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে (সুবিধাভোগী ব্যতীত) ছাত্ররা চেয়েছিলেন ভেদাভেদহীন বাংলাদেশ (Bangladesh) । যেখানে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গের ভেদাভেদ থাকবে না। কারও জন্যই কোনও ‘বিশেষ সুবিধা’ থাকবে না। কিন্তু হাসিনার দেশত্যাগের পরেই কীভাবে সেই স্বপ্নকে চুরমার করে পদ্মাপাড়ের দখল নিয়েছে কট্টরপন্থীরা, গত প্রায় দেড় বছরে সমগ্র বিশ্ব তা দেখেছে।
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লিগ। আর এই প্রক্রিয়ার কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা। একের পর এক হিন্দুর ঘর জ্বলেছে, দীপু দাসদের নির্মম হত্যা হয়েছে, তছনছ করা হয়েছে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি। কট্টরপন্থীদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে তাই ধর্মনিরপেক্ষ নেতৃত্বের ক্ষমতাসীন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তসলিমা (Taslima Nasreen)। তিনি লেখেন, “যারা নারীর অধিকার, মানবাধিকার, সর্বজনীন শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাঁদের ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে নীতি ও আদর্শ, বংশতন্ত্র বা ধর্মীয় কর্তৃত্ব নয়।”
বাংলাদেশে চলছে সংসদীয় নির্বাচন
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে বাংলাদেশ (Bangladesh) জাতীয় সংসদের ৩০০-র মধ্যে ২৯৯ টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। শেষ হবে বিকেল ৪ টেয়। এর মধ্যে একটি আসন, শেরপুর-৩ এ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে। মোট ৫০ টি নথিভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দল ভোটে লড়ছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০২৮ জন। জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি চলছে জুলাই সনদের গণভোট। তবে লড়ছে না ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত দল শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ।


