Aaj India Desk, মালদহ : মালদহের মালতিপুরে নির্বাচনী সভা থেকে ফের দলবদল নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নাম না করেই মৌসাম বেনজির নূরকে (Mausam Benazir Noor) নিশানা করে তিনি বলেন, ভোটের মুখে ‘মৌসুমি হাওয়া’র মতো দল বদল করলে মালদহের মানুষ তা মেনে নেবেন না। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘মৌসুমি হাওয়া’ তত্ত্বে আক্রমণ
মালতিপুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন তৃনমূল কংগ্রেসের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পর হঠাৎ দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেওয়া আসলে বিশ্বাসভঙ্গ করার সমান। তাঁর কথায়, “আমি ওকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। সব সুযোগ দেওয়ার পর লড়াইয়ের সময়ে যারা পালিয়ে যায়, মানুষ কি তাদের ক্ষমা করবে?”
প্রসঙ্গত, কোটওয়ালি পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী মৌসাম নূর (Mausam Benazir Noor) কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং সম্প্রতি আবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। এই দলবদল নিয়েই সভায় প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, রাজ্যসভায় পাঠানো থেকে শুরু করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তৃণমূলের বড় ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, “আমার ভোটও ছিল ওর জন্য। এত সুযোগ পাওয়ার পর যারা বিরোধিতা করে, তারা মানুষের সমর্থন পাওয়ার যোগ্য নয়।”
সামাজিক প্রকল্প নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য
এদিনের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মালদহের ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন যে, বারবার বিজেপি বা কংগ্রেসকে সমর্থন করলে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘কৃষকবন্ধু’র মতো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, শাসকদলকে ভোট না দিলে সামাজিক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে, এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তিতে বণ্টন করা যায় না ফলে বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দলবদল নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন
পাশাপাশি মৌসামকে (Mausam Benazir Noor) নিয়ে মমতার বক্তব্যেও বিরোধীরা সরব হয়েছেন। একদিকে দলত্যাগ করে অন্য দলে যাওয়া নেতাদের ‘অবিশ্বস্ত’ বা ‘সুবিধাবাদী’ বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আবার বিভিন্ন দল থেকে এসে শাসকদলে যোগ দেওয়া নেতাদের স্বাগত জানানো হচ্ছে, এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়, কিন্তু তা বিচার করার ক্ষেত্রে একই মাপকাঠি থাকা উচিত। শাসকদলের পাল্টা যুক্তি, যারা তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন তারা ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ আসছেন, আর যারা দল ছাড়ছেন তারা ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে’ যাচ্ছেন। ফলে বিষয়টি এখন নৈতিকতার প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যাখ্যার লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে, যেখানে ‘দলবদল’কে ঘিরে কোনটি আদর্শ আর কোনটি সুবিধাবাদ তা নির্ধারণের দায় শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ওপরই বর্তাচ্ছে।


