Aaj India Desk, কলকাতা : দোলের আবহে রঙের বদলে রাজনীতির সুর কলকাতার ভবানীপুরে (Bhabanipur)। দোলের দিন সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেন, “এখানে নাস্তিকতা-ধর্মনিরপেক্ষতা চলবে না। এই দেশের নাম হিন্দুস্তান। এখানে হিন্দুদের শাসন চলবে।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ
তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের নেতা দেবাশিস কুমার বলেন, দোলের মতো উৎসবে রাজনীতি টানা উচিত নয়। তাঁর কটাক্ষ, “মেদিনীপুর থেকে ভবানীপুরে (Bhabanipur) এসে দোল পালন, এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।”
আবার একই দিনে শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহনশীলতার ঐতিহ্য রক্ষা করার শপথ নিতে হবে।
নন্দীগ্রামের ছায়া ভবানীপুরে?
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর। অল্প ব্যবধানে সেখানে জয়ী হন শুভেন্দু। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে এবার ভবানীপুরে (Bhabanipur) সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভবানীপুরে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটার নাম বাদ পড়েছে এবং আরও বহু নাম যাচাইাধীন। চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা কমেছে বলে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপির একাংশের দাবি, এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিল। সেই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে দলটি ২০২৬-এ আসনটিকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
বর্তমানে শুভেন্দুর মন্তব্য ও মমতার পাল্টা বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ভবানীপুর আবার সেই লড়াইয়ের কেন্দ্র হবে কি না তা সময়ই বলবে।


