Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন সামনেই। এর মধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি (LPG Price Hike) এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভোটের আগে শাসকদলের এই নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
সরাসরি আক্রমণ কেন্দ্রের দিকে
শনিবার কলকাতার এসপ্ল্যানেডে চলা ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে (LPG Price Hike)। তাঁর দাবি, “একদিনে ৬০ টাকা এবং তার তিন দিন আগে ৫৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে ২১ দিন আগে গ্যাস বুক করতে হবে। কিন্তু গ্যাস ফুরিয়ে গেলে মানুষের ২১ দিন কীভাবে চলবে?”
নারী ভোটব্যাঙ্কে নজর?
তিনি বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে পড়বে। সেই কারণেই রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলার মহিলাদের হাতা খুন্তি হাতে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে মহিলাদের কালো শাড়ি পরে মিছিল করা উচিত। একই দিনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বাংলার নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের অর্থ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেওয়া শুরু হয়েছে এবং প্রায় এক কোটি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোটার তালিকা এই দুই ইস্যুকে একসঙ্গে সামনে এনে শাসকদল নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মহিলাদের বড় ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে এই আন্দোলনের ডাক রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো একটি প্রতীকী দিনকে সামনে রেখে মূল্যবৃদ্ধিকে লক্ষ্য করে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া আগামী নির্বাচনের আগে শাসক দলের জন্য একটি জোরালো হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে।
ভোটের আগে শুধুমাত্র ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’র মতো ভাতা প্রকল্প যথেষ্ট নয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। তাই নতুন করে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির (LPG Price Hike) ইস্যু সামনে আনতে হচ্ছে শাসকদলকে। সমালোচকদের দাবি, গত কয়েক বছরে নারী ও যুব সমাজকে কেন্দ্র করে একাধিক আর্থিক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার কিন্তু নির্বাচনের আগে বড় নারী ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে ‘হেঁসেলের সমস্যা’কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার এই চেষ্টা আগামী নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


