স্নেহা পাল , উত্তর ২৪ পরগনা : বসিরহাট (Basirhat) উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে SIR শুনানি প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন।
আগেই বসিরহাট (Basirhat) ২ ব্লকের BDOর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার সেই BDO তথা AERO সুমিত্র প্রতীম প্রধানকে (Sumitra Pratim Pradhan) অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সমস্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ থেকে সরিয়ে দিয়ে তাঁকে সাসপেন্ড করার চিঠি পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে।
অনুমতি ছাড়া নিয়োগ অতিরিক্ত AERO, সিদ্ধান্ত বাতিলের নির্দেশ কমিশনের
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) শুনানিতে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক কোনও পূর্ব অনুমতি বা তথ্য না দিয়েই ১১ জন অতিরিক্ত AERO নিয়োগ করেন এবং নিজ উদ্যোগে ‘সুয়ো মোটো’ জারি করে হিয়ারিং পরিচালনা করেন। অথচ তাঁর এই কাজ করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, আইনবিরুদ্ধভাবে নিযুক্ত ১১ জন অতিরিক্ত AERO আধিকারিকের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত ও পরিচালিত শুনানি বাতিল বলে গণ্য হবে। ওই সব প্রক্রিয়া নতুন করে বিধি মেনে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দায় এড়ানোর সুযোগ নেই: সাফ মন্তব্য কমিশনের
নির্বাচন কমিশনের মতে, এই পদক্ষেপ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩সি ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গুরুতর প্রশাসনিক অসদাচরণের শামিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার প্রস্তুতি, সংশোধন ও শুনানি সংক্রান্ত কাজে যুক্ত সমস্ত আধিকারিক নির্বাচন কমিশনের অধীন এবং তাঁদের নিয়ম ভঙ্গের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত আধিকারিক
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সুমিত্র প্রতীম প্রধানকে (Sumitra Pratim Pradhan) সমস্ত নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আকারে কমিশনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে।
ভোটের মুখে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। SIR ২০২৬ এবং ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র (Logical discrepancy) তালিকা প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে যাতে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে কোনও অশান্তি বা প্রশাসনিক গাফিলতি না ঘটে, সে বিষয়ে আগেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তা সত্ত্বেও বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।


