কলকাতা: বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ধোপে টিকল না তৃণমূলের “নথি বাজেয়াপ্ত” করার দাবী! ইডির (ED) দাবিকেই মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আইপ্যাক (I-Pac) কান্ডে কলকাতা হাইকোর্টে ইডির দায়ের করা মামলার এদিনের শুনানিতে তৃণমূলের দাবী ছিল, ইডি তাঁদের দলের সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে।
তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে আদালতে বলা হয়, “যে নথি আমরা হাতেই পাইনি, তা বাজেয়াপ্ত করব কি ভাবে?” এদিন তৃণমূলের মামলার নিষ্পত্তি করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বহাল থাকলো ইডির মামলা। মামলাকারী ইডির বক্তব্য আবার শুনবে আদালত।
“রেকর্ড করা দরকার” বলে তৃণমূল
তৃণমূল পক্ষের আইনজীবী বলেন, “ইডি যে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি এই অংশটি রেকর্ড করা দরকার।” ছ-মাস কিছু না করে ভোটের আগে এই ধরণের অভিযান নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীকে টানা নিয়ে তৃণমূলের আইনজীবী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নামে আদালতে কিছু শিষ্টাচার মেনে চলা উচিৎ”।
“তৃণমূলের মামলার গ্রহণযোগ্যতাই নেই”, বলে ইডি
এদিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ইডির (ED) আইনজীবী দাবী করেন, “আইপ্যাক কান্ডে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই মামলায় ইডি তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।” কোনও সংবেদনশীল নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে দাবী ইডির। পাশাপাশি, তৃণমূলের তরফে শুভাশিস চক্রবর্তীর মামলা করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইডির তরফের আইনজীবী।
I-Pac মামলা
সল্টলেক সেক্টর ফাইভে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি’র তল্লাশির ঘটনায় হাইকোর্টে ইডি বনাম তৃণমূল। ৮ জানুয়ারি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিক নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যান। ইডি অভিযোগ করেছে, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ভোটের আগে অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনী কৌশল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল।


