Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের মালদহে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকদের উপর হামলা ও ঘেরাওয়ের ঘটনায় এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)।
কী ঘটেছিল মালদায় ?
মালদার একটি গ্রামে এসআইআর সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাতজন বিচারককে ঘিরে ফেলে গ্রামবাসীদের একাংশ। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাঁরা কার্যত আটকে ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও ফেরার পথে গাড়িতে পাথর ছোড়া ও লাঠি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং বিচারব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, “আমরা এত রাজনৈতিক মেরুকরণ আগে দেখিনি।” বেঞ্চ আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, রাজ্যে প্রায় সব কিছুই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতের নির্দেশ কার্যকর করাতেও তার প্রভাব পড়ছে। শুনানিতে আদালত জানায়, এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ধীর ছিল। প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি নিজে রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।রাত ১১টা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আধিকারিক উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।
‘অরাজনৈতিক’ দাবি নিয়ে সন্দেহ
আবেদনকারীর আইনজীবী এই ঘটনাকে “অরাজনৈতিক প্রতিবাদ” বলে দাবি করলেও আদালত সেই যুক্তি মানতে নারাজ। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, যদি প্রতিবাদ অরাজনৈতিক হয়, তাহলে সেখানে রাজনৈতিক নেতারা কেন উপস্থিত ছিলেন? এবং থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের ভূমিকা কোথায় ছিল?
কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইল আদালত
ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত (Supreme Court of India) নির্বাচন কমিশনকে বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এসএসপি এবং জেলা শাসকের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছে, অন্য রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চললেও পশ্চিমবঙ্গে বারবার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে বৃহত্তর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শীর্ষ আদালতের (Supreme Court of India) মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকরা কোনও রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিনিধি নন, তাঁরা আদালতের সম্প্রসারিত হাত। তাই তাঁদের উপর হামলাকে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার উপর আঘাত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।


