Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের (CV Anand Bose) আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। কিন্তু সরকারি ভাবে কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন বোস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রথম থেকেই মসৃণ ছিল না। প্রশাসনিক সৌজন্য বজায় থাকলেও নানা ইস্যুতে রাজ্যপাল ও নবান্নের অবস্থান যে ভিন্ন ছিল তা স্পষ্ট।
সূত্র অনুযায়ী, সিভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose) তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক চাপের মুখে পড়েছিলেন। ফলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত নাকি এর পেছনে অন্য কারণ রয়েছে তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা।
বোস নিজে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তিনি “রাজ্যপালের দফতরে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।” প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই প্রসঙ্গে উঠে আসে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনাও। তখন স্বাস্থ্যজনিত কারণ সামনে এলেও পরে তাঁর নিজের কথাতেই অন্য কারণ ফুটে ওঠে। তবে কি ভবিষ্যতে বোসও ব্যাখ্যা দেবেন নাকি দিল্লির কলকাঠিতে নির্বাচনের ঠিক আগে পদত্যাগ করতে বাধ্যই হলেন তিনি?
অন্যদিকে সিভি আনন্দ বোসকে (CV Anand Bose) সরিয়ে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর.এন. রবিকে আনার সিদ্ধান্তের পিছনেও দিল্লির নতুন কৌশলের ঈঙ্গিত মিলছে। প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা রবি আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন এবং সেখানে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত নিয়ে বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বোসের অসম্পূর্ণ কাজ করতেই রবির বঙ্গে আগমন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর।


