Aaj India Desk, কলকাতা: সম্প্রতি রাজ্যের একের পর এক বোমা হুমকির (Bomb threat) ঘটনায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। আদালত, বিমান, জনবহুল এলাকা , প্রতিটি ক্ষেত্রেই হুমকি মিলছে ই-মেল বা নোটের মাধ্যমে। এগুলো কি শুধুই ভুয়ো হুমকি, নাকি এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত কোনও উদ্দেশ্য তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আদালতে ডিজিটাল হুমকি
মঙ্গলবার সকালেই কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে বোমা রাখা হয়েছে বলে একটি হুমকিমূলক ই-মেল আসে। সঙ্গে সঙ্গে আদালত চত্বর খালি করে তল্লাশি চালানো হয়। একইদিনে আসানসোল জেলা আদালতেও বোমা হুমকির (Bomb threat) ই-মেল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্নিফার ডগ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও দুই ক্ষেত্রেই তল্লাশিতে কিছু মেলেনি।
বিমানে নোটের মাধ্যমে বোমাতঙ্ক
কিছুদিন আগেই কলকাতা থেকে শিলংগামী একটি বিমানের শৌচাগারে বোমা থাকার দাবি করে একটি কাগজের নোট পাওয়া যায়। যাত্রীদের নামিয়ে বিমান তল্লাশি করা হলেও সেখানেও কিছু মেলেনি।
ভোটের আগে উদ্ধার বিস্ফোরক
এদিকে, চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহরে পরপর বিস্ফোরক ও গুলির ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সোমবার রাতে বেহালা সরসুনা থানার ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি বোমা। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি উদ্ধার করে।
তদন্তে একাধিক যোগসূত্র
পুলিশ সূত্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বোমা হুমকিগুলি (Bomb threat) ভুয়ো বলে মনে হচ্ছে। তবে একাধিক ঘটনার সময়কাল ও পদ্ধতিগত মিল তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। সাইবার সেলের সহায়তায় ই-মেলগুলির উৎস খোঁজারও চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যাহত করা, আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের প্রাথমিক অনুমান। আবার ভোটের আগে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা অথবা বৃহত্তর রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতার আবহ তৈরি করার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত বছরের লালকেল্লার বোমা বিস্ফোরণের ফলে সেই আতঙ্ক আরোও তীব্র হচ্ছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এই ধারাবাহিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। ই-মেলের আড়ালে থাকা পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই হুমকিগুলি কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর খেলা নাকি আরও বড় কোনও পরিকল্পনার ইঙ্গিত তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।


