Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: আম আদমি পার্টির (AAP) রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে হঠাৎ সরানো হল রাঘব চাড্ডাকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন অশোক মিত্তাল। শুধু পদচ্যুতি নয়, দলীয় তরফে তাঁকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে রাজ্যসভায় যা ঘিরে দলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি ও মতভেদের জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
AAP ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ডেপুটি লিডারের পদে আর থাকছেন না রাঘব চাড্ডা। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব নিচ্ছেন অশোক মিত্তল, যিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। হঠাৎ এত বড় সিদ্ধান্ত হঠাৎ কেন আর কেনই বা একজন সক্রিয় সাংসদকে দলীয় সময় থেকেও ‘নীরব’ করে দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যসভায় AAP-এর বরাদ্দ সময় থেকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ কেবল সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং একটি স্পষ্ট বার্তা।
বিরোধপূর্ণভাবে, রাজ্যসভায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থমূলক ইস্যুতে সরব ছিলেন চাড্ডা।বিমানবন্দরে খাদ্যের উচ্চমূল্য, গিগ ওয়ার্কারদের অধিকার, টেলিকম রিচার্জ সংক্রান্ত অভিযোগ সহ তাঁর উত্থাপিত বেশ কিছু বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
আগে থেকেই বাড়ছিল দূরত্ব ?
তবে উল্লেখ্য, গত কিছু মাস ধরেই আরভিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে রাঘব চাড্ডার দূরত্ব বাড়ছিল বলে জানা যাচ্ছে। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কম দেখা গেছে। অসম নির্বাচনে স্টার প্রচারকের তালিকায়ও ছিলেন না তিনি। এমনকি মণীশ সিসোডিয়ার সঙ্গে নেতৃত্বের মুক্তির পরও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি রাঘব চাড্ডা। এই নীরবতাই কি শেষমেশ তাঁকেই ‘নীরব’ করে দিল কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
AAP-এর অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
বর্তমানে রাজ্যসভায় AAP-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জন পাঞ্জাব ও ৩ জন দিল্লি থেকে। দল এখন পাঞ্জাব ও গুজরাটের নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু সেই প্রস্তুতিতেও রাঘব চাড্ডার অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দলীয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগহীনতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হতে পারে। পাশাপাশি দলের অন্দরমহলে আরও একটি জল্পনা জোরদার হয়েছে যে রাঘব চাড্ডা ভবিষ্যতে অন্য রাজনৈতিক পথে হাঁটতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই, তবুও হঠাৎ এই পদক্ষেপ সেই জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে।
রাঘব চাড্ডার উত্থান যেমন দ্রুত ছিল, তেমনি তাঁর এই হঠাৎ ‘পতন’ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। AAP-এর এই সিদ্ধান্ত কেবল সাংগঠনিক বদল, নাকি বড় কোনও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত তা এখনই স্পষ্ট নয়। এখন AAP এবং রাঘব চাড্ডার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


