Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো জুড়ে বসেছে পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য। এর পরেই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়ে সোমবার নদিয়ার নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতাকে লক্ষ্য করে করা ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কী বলেছে পাকিস্তান ?
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যদি কোনও ‘অজুহাতে’ পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তার প্রতিক্রিয়া কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই মন্তব্যকে অনেকেই পরোক্ষ হুমকি হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে কলকাতার মতো বড় শহরকে উল্লেখ করায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
সোমবার নদিয়ার বেথুয়াডহরিতে নির্বাচনী প্রচারে এই ইস্যু তুলে ধরেই ‘নীরব’ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী যখন কলকাতার নাম করে মন্তব্য করছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী কেন বাংলায় এসে একবারও বললেন না কেনো যে এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে? প্রধানমন্ত্রী মুখ বুজে বসে আছেন কেন? তবে কি নির্বাচনের আগে আর একটা পহেলগামের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে? এটা কি কেবলই লোক দেখানো ছলনা?” তিনি আরও দাবি করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এমন মন্তব্যের পরেও কেন্দ্রের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না পাওয়া উদ্বেগজনক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, বিদেশি মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরেও কেন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, “রাজনৈতিক কারণে বাংলাকে টার্গেট করা হয়, কিন্তু বিদেশ থেকে হুমকি এলে নীরবতা কেন?” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মন্তব্যের উৎস ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা উচিত এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে বাড়ছে জটিলতা
উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান (Pakistan) সম্পর্ক গত কয়েক বছরে একাধিক ঘটনায় আরোও উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। কাশ্মীরের পাহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রায় তলানিতে পৌঁছয়। তারপর ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং পরবর্তী কয়েকদিনের সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই প্রেক্ষাপটেই খাজা আসিফের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষিতে এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


