Aaj India Desk, নদিয়া : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে করিমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সোহম চক্রবর্তীর (Soham Chakraborty)। ২০২১ সালে জয়ী এই বিধায়ককে ঘিরে পূর্বের একাধিক অভিযোগ সম্প্রতি ফের সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন এনে চণ্ডীপুরের পরিবর্তে করিমপুর কেন্দ্র থেকে লড়তে পাঠানো হয়েছে সোহম চক্রবর্তীকে। প্রার্থী বদলের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে, বিশেষ করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
চণ্ডীপুরের পুরনো অভিযোগ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় চণ্ডীপুরে ভোট চলাকালীন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের মারধরের জন্য লোক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছিল সোহম চক্রবর্তীর (Soham Chakraborty) বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগের প্রমাণ বা আইনি নিষ্পত্তি নিয়ে পরবর্তীতে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে।
নিউটাউন কাণ্ড
এরপর ২০২৪ সালের জুন মাসে নিউটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় গাড়ি পার্কিং নিয়ে বচসার জেরে রেস্তোরাঁ মালিককে মারধর এবং চড় মারার অভিযোগ ওঠে সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্টে শুনানির আগে তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেন এবং তা মঞ্জুর হয় বলে জানা যায়।
আর্থিক লেনদেন
অন্যদিকে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি মামলাও তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে তিনি সোহম চক্রবর্তীকে (Soham Chakraborty) প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা ধার দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আংশিকভাবে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এই সমস্ত ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। যদিও সোহম চক্রবর্তী বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
ভোটের আগে বিতর্কের প্রভাব
জনপ্রতিনিধি হিসেবে একজন নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে প্রশ্ন তৈরি করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নেতাদের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা সবসময়ই প্রত্যাশিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পুরো দেশ জুড়েই সেই নির্বাচনী আবহে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে যত বেশি তারকা খচিত দল, তত বেশি ভোটের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে করিমপুর কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্যেও এই প্রার্থিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রচার যত এগোবে, এই অভিযোগগুলি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে তত প্রভাব ফেলবে। এবার এই বিতর্কের মধ্যেও সোহম চক্রবর্তী কীভাবে তাঁর প্রচার কৌশল সাজান সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


