ব্যারাকপুর: রবিবার রাতে উত্তর ব্যারাকপুরের তৃণমূল কাউন্সিলরের (TMC Councillor) এলোপাথাড়ি লাথিতে মারা যান ৮১ বছরের বৃদ্ধ। কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মোট ৪ টি ধারায় মামলা দায়ের। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁকে তোলা হয় ব্যারাকপুর আদালতে। ঘটনায় কাউন্সিলরের ফাঁসির দাবীতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ব্যারাকপুর। চিড়িয়া মোড়ের কাছে বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অর্জুন সিং (Arjun Singh)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। চিড়িয়া মোড়ের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসে স্লোগান তোলেন অর্জুন সিং, শীলভদ্র দত্তেরা। বন্ধ করে দেওয়া হয় বি টি রোডের একাংশ। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ দাসকে (TMC Councillor) আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিড়ের মুখে পড়ে পুলিশ। আদালতের দিকে বিজেপিও মিছিল করে। আদালতের সামনে পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ।
বিরোধীদের নিশানায় তৃণমূল
ঘটনাকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যের শাসনব্যাবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনা নতুন নয়। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী থেকে কর্মী সমর্থকদের হাতে সাধারণ মানুষ হেনস্থার স্বীকার হচ্ছেন”। পাশাপাশি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের সাসপেন্ড করা এবং গরুর গাড়িতে হেডলাইন লাগানো সমান। ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ডে আদপে কিছুই হবে না”।
বস্তুত, রবিবার রাতে ৮১ বছরের এক বৃদ্ধকে এলোপাথাড়ি লাঠি মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই হার্টফেল করে মারা যান বৃদ্ধ। প্রত্যক্ষদর্শী এবং বৃদ্ধর পরিবারের দাবী, কাউন্সিলরকে (TMC Councillor) বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও কোনও লাভ হয়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। উল্টে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি। মৃত বৃদ্ধের পরিবারের অভিযোগ, “একজন কাউন্সিলরের গায়ে হাত তোলার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আর উনি যে আক্রমণের অভিযোগ করছেন, ওনার গায়ের একটা আঁচর দেখাক! সবসময় গাড়িতে ঘোরেন, ওনাকে ৮১ বছরের এক বৃদ্ধ কি করে আক্রমণ করবেন”!


