Aaj India desk, কলকাতা: আপনিও কি সারাদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন?এআই (AI) কি একাকিত্বের নতুন সঙ্গী হয়ে উঠেছে নাকি? নাকি নিঃসঙ্গতার গভীর ফাঁদ?দেখা গেল গবেষণায় উঠে এল উদ্বেগজনক ছবি। আজকাল ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
কাজের গণ্ডি পেরিয়ে এখন তা ঢুকে পড়েছে ব্যক্তিগত জীবনের অন্তরঙ্গ পরিসরে। শোনা গেছে একাকিত্ব কাটাতে বহু মানুষ এখন এআই(AI)-কে সঙ্গী ভাবছেন—কেউ বন্ধুর মতো, কেউ আবার প্রেমিক বা প্রেমিকার মতো করে নিয়মিত চ্যাট করছেন। তবে এই প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
ভারতে দুই দফায় পরিচালিত ওই গবেষণায় ১,৫০০ জনের মতামত নেওয়া হয়। তার মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, মানসিক বা যৌন মিথস্ক্রিয়ার জন্য এআই(AI) ব্যবহারে তাঁদের আসক্তির অনুভূতি হয়েছে—যা পর্নোগ্রাফির আসক্তির সঙ্গে তুলনীয়।
এদিকে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা যৌন পরামর্শ নিচ্ছেন এআই(AI)-এর কাছ থেকে। সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলাতে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছেন। এমনকি ৫৪ শতাংশ দাবি করেছেন, তাঁরা ভারচুয়াল যৌন সম্পর্কেও জড়িয়েছেন এআই সঙ্গীর সঙ্গে।
একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সহজলভ্য, বিচারহীন ও সর্বক্ষণিক ‘উপস্থিত’ একটি সঙ্গীর খোঁজ করছেন। এআই(AI)সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে দ্রুত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই নির্ভরতা বাস্তব সম্পর্কের জটিলতা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে অনেককে। বাস্তব মানুষ যেখানে মতভেদ, প্রত্যাখ্যান বা সীমারেখা তৈরি করতে পারে, সেখানে এআই(AI) সাধারণত ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী সাড়া দেয়। ফলে একধরনের কৃত্রিম স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তব সামাজিক দক্ষতা ক্ষয় করতে পারে।
তাই গবেষকরা সতর্ক করছেন, এআই(AI)-কে ‘নিরাপদ আবেগের জায়গা’ হিসেবে ব্যবহার করা সাময়িক স্বস্তি দিলেও, অতিরিক্ত নির্ভরতা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে,বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই বিষণ্নতা, একাকিত্ব বা সম্পর্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
তবে প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ দায়ী করা ঠিক নয়। সঠিক সীমারেখা ও সচেতন ব্যবহারে এআই মানসিক সহায়তার পরিপূরক হতে পারে। তাই মূল প্রশ্ন দাড়ায় —মানুষ কি এআই(AI)-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, নাকি ধীরে ধীরে সেটির উপর আবেগগতভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে?
একাকিত্বের এই নতুন ডিজিটাল সমীকরণ সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


