Aaj India desk, কলকাতা: প্রথম যখন তথ্যগুলো দেখি, সত্যি বলতে একটু চমকে উঠেছিলাম। এতদিন ভাবতাম, ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি-ই (IT) ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ছবিটা দ্রুত বদলাচ্ছে।
নতুন উদ্যোগ, নাকি নতুন যুগের সূচনা?
International Labour Organization (ILO) এবং World Economic Forum-এর ‘Future of Jobs’ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৪ কোটি নতুন ‘গ্রিন জব’ (Green Job) তৈরি হবে। এখান দিয়েই বোঝা যাচ্ছে, এটা কেবল পরিসংখ্যান নয়—এটা (Green Job) এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত!
বিশেষ করে ভারত এখন নবীকরণযোগ্য শক্তির হাবে পরিণত হওয়ার পথে। ২০৭০ সালের মধ্যে নাকি ‘নেট জিরো’ লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) ক্ষেত্রে বিপুল কর্মীর প্রয়োজন হবে। শুধু গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনেই প্রায় ৬ লক্ষ নতুন চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ যা দেখছি, আগে কী ছিল?
একসময় পরিবেশ রক্ষা মানেই ছিল গাছ লাগানো বা সচেতনতার প্রচার। তাই সবার ভাবনা ছিল। কিন্তু ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে বুঝছি, পরিবেশ বাঁচানোই এখন পেশা। ‘সাসটেইনেবিলিটি’ আর কেবল ট্রেন্ড নয়, এটি অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি।
আগামী কয়েক বছরে পরিবেশ-বান্ধব পেশায় নিয়োগের হার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে—এই সম্ভাবনাই সবাই কে আশাবাদী করে তোলে।
কোথায় কাজের সুযোগ?
সৌর ও বায়ুশক্তি ক্ষেত্রে সোলার প্যানেল ডিজাইন থেকে উইন্ড টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ—দু’ধরনের দক্ষতারই চাহিদা। ইভি সেক্টরে ব্যাটারি বিশেষজ্ঞ ও চার্জিং অবকাঠামো প্রকৌশলীদের কদর বাড়ছে দ্রুত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইক্লিং ও সার্কুলার ইকোনমি বিশেষজ্ঞরা বড় সংস্থাগুলিতে জায়গা পাচ্ছেন। পাশাপাশি, সাসটেইনেবিলিটি কনসালট্যান্ট হিসেবে পরিবেশবিদদের জন্য খুলে যাচ্ছে কর্পোরেট দরজা।
সবচেয়ে বড় কথা, গ্রিন জব (Green Job) মানেই মাঠে নেমে কাজ করা নয়। যদি আমারা এই ভাবে ভাবি যে- সায়েন্টিস্ট হই, জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারি তার সাথে যদি আইনজীবী হই, পরিবেশ আইন নিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে পুরনো দক্ষতাকেই নতুনভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ থেকে যাবে।
সবার বিশ্বাস, এই পরিবর্তন শুধু কেরিয়ার নয়—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক টেকসই পৃথিবী গড়ার প্রতিশ্রুতি। আর সেই ভবিষ্যতের অংশ হতে পারাটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


