18 C
Kolkata
Wednesday, February 11, 2026
spot_img

দুধের পাউচে বিষ : পাঁচ বছর ধরে কী খাচ্ছিলেন গ্রামবাসী ?

স্নেহা পাল, গান্ধীনগর : দৈনন্দিন বাজারে কেনা দুধের প্যাকেটকে নিরাপদ বলেই ধরে নেন অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু সেই চেনা দুধের পাউচের ভেতরে আসলে কী রয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল গুজরাটের (Gujrat) সাবরকাঁথা জেলায় পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান।

পাঁচ বছরের নীরব বিষচক্র

গত পাঁচ বছর ধরে গুজরাটের (Gujrat) সাবরকাঁথা ও মেহসানা জেলার একাধিক গ্রামের মানুষ অজান্তেই ডিটারজেন্ট পাউডার, ইউরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো দুধ ও ঘোল পান করছিলেন। শুক্রবার সাবরকাঁথার লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (LCB) একটি ভেজাল দুধ তৈরির কারখানায় হানা দিতে বিষয়টি সামনে আসে।

ডিটারজেন্টে তৈরি দুধ

LCB সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিজ তালুকার সালাল গ্রামের কাছে অবস্থিত ‘শ্রী সত্য ডেয়ারি প্রোডাক্টস’ নামে একটি কারখানায় জল, মিল্ক পাউডার, কস্টিক সোডা, রিফাইন্ড পামোলিন তেল, সয়াবিন তেল, ডিটারজেন্ট পাউডার ও ইউরিয়া সার মিশিয়ে দুধ তৈরি করা হয়। মাত্র তিনশো লিটার খাঁটি দুধ ব্যবহার করে প্রতিদিন ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ লিটার ভেজাল দুধ উৎপাদন করা হত বলে জানিয়েছেন এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক।

এই অভিযানে পুলিশ বিপুল পরিমাণ ভেজাল সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে। বিতরণের জন্য প্রস্তুত ১,৯৬২ লিটার ভেজাল দুধ এবং ১,১৮০ লিটার ভেজাল ঘোলও উদ্ধার করা হয়।

ক্রেতাকে ঠকাতে ‘বৈজ্ঞানিক’ কৌশল

গুজরাট (Gujrat) পুলিশ জানায়, দুধের ঘনত্ব, ফেনা, প্রোটিনের মাত্রা এবং বাহ্যিক রং স্বাভাবিক দেখানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হত, যাতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হন। সেই রাসায়নিক যুক্ত দুধই পাউচে ভরে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আশপাশের গ্রামগুলিতে সরবরাহ করা হয়।

নির্দিষ্ট গোপন সূত্রের ভিত্তিতে LCB, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) এবং খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ দফতরের যৌথ দল এই অভিযান চালায়। তল্লাশির পর কারখানাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার চার, মালিক পলাতক

এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কারখানার অপারেটর জিতেন্দ্র প্যাটেল এবং কর্মী সচিন মাকওয়ানা, করণ পারমার ও অজয়সিং পারমার। একজন নাবালক শ্রমিককেও আটক করা হয়। তবে কারখানার মালিক রাকেশ ওরফে ধামো প্যাটেল বর্তমানে পলাতক। তাকে ধরার জন্য এখনও তল্লাশি চলছে। এদের বিরুদ্ধে প্রান্তিজ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সরকারি নজরদারি থাকা সত্ত্বেও বাজারে এতদিন ভেজাল দুধ থাকায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন