Aaj India desk, কলকাতা: বয়স বাড়ার আগে যেন শৈশবটাই হারিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল স্ক্রিনের আলো আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের চাপে ধীরে ধীরে শিশুদের শরীরে জমছে অদৃশ্য বিপদ। আর সেই বিপদকে কেন্দ্র করে কখনও ট্রোল, কখনও কটু মন্তব্য—“মোটা হয়ে গেছে”, “নাদুসনুদুস দেখাচ্ছে”—এই ধরনের সামাজিক শামুকের মতো চাপ অনেক সময় শিশুদের মানসিকতাকেও আহত করছে।
কিন্তু চিকিৎসকদের বার্তা স্পষ্ট, ওবেসিটি (Obesity) কোনো সৌন্দর্যের মাপকাঠি নয়, এটি একটি রোগ।
কলকাতা থেকে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, শিশুদের মধ্যে স্থূলতার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
আধুনিক জীবনযাত্রা এই সমস্যার অন্যতম কারণ। খেলাধুলার মাঠ যেন ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, আর তার জায়গা দখল করছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। বাড়ির তৈরি খাবারের বদলে পিৎজা, বার্গার বা প্যাকেটজাত খাবার শিশুদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে আর সেখান থেকেই জন্ম নিচ্ছে ওবেসিটি (Obesity) কিন্তু এই স্বস্তির খাবারের আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি।
আশঙ্কা এইটাও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী প্রজন্ম বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকটে পড়তে পারে। অল্প বয়সেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ শিশুদের শরীরে বাসা বাঁধছে। শুধু শরীর নয়, মানসিক দিক থেকেও ক্ষতি হচ্ছে। স্কুল বা বন্ধুদের কটাক্ষ অনেক শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তুলছে। সবাই বলছেন, সামাজিক ট্রোলিং সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
‘শিশু একটু মোটা মানেই সে অসুস্থ নয়’—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ওজনের সংখ্যা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে বড় বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা বাইরে খেলার অভ্যাস, সুষম খাদ্য এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
সতর্ক করা হচ্ছে, যদি এখনই সচেতনতা না বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে শৈশবকালীন স্থূলতা এক নীরব মহামারির আকার নিতে পারে। শিশুরা যেন ট্রোলের শিকার না হয়, বরং সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে—এই বার্তাই দিতে চাইছেন কারণ শৈশবকে বাঁচানো মানেই আগামী প্রজন্মকে বাঁচানো। ওবেসিটিকে (Obesity) না বলুন, সুস্থ জীবনের পথে হাঁটুন।


