মৃত্যুকে শেষ পরিণতি নয় বরং জীবনের আরেকটি ধাপ মনে করেন ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসির টোরাজা জনগোষ্ঠী। সেই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে তাদের প্রাচীন ও ব্যতিক্রমী আচার মা’নেনে (Ma’nene) রীতি।
মা’নেনে প্রথা কী?
এই রীতি অনুযায়ী পরিবার পরিজনরা প্রতি তিন বছর অন্তর মৃত স্বজনদের কবর থেকে বের করে পরিষ্কার করেন, নতুন পোশাক পরান এবং তারপর আবার সম্মানের সঙ্গে সমাধিতে ফিরিয়ে দেন। টোরাজা সমাজে মা’নেনে (Ma’nene) কোনো ভয়ের বিষয় নয়। এটি তাদের পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
কখন পালিত হয় এই প্রথা ?
ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত ফসল কাটার পর, আগস্ট মাসের শেষ দিকে এই রীতি পালন করা হয়, যাতে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যরাও গ্রামে ফিরে একসঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
পাতানে থেকে শুরু মা’নেনে
মা’নেনে (Ma’nene) আচার শুরু হয় পাতানে নামের পারিবারিক সমাধি ঘর থেকে। দেখতে ছোট ঘরের মতো এই সমাধিতে একাধিক মৃতদেহ রাখা থাকে। সেখান থেকে পূর্বপুরুষদের দেহ বের করে সাবধানে পরিষ্কার করা হয়। পরে পুরনো কাপড় বদলে নতুন পোশাক পরানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে মৃতদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানো হয় এবং পরিবারের সঙ্গে ছবিও তোলা হয়।
এই মা’নেনে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো গ্রামই একসঙ্গে পালন করে। তাই অনুষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে। আচার শেষে সবাই একত্রিত হন তংকোনান নামের ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে, যেখানে সম্মিলিত প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অটুট পারিবারিক বন্ধন
টোরাজা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃতদের আত্মা তাদের জন্মগ্রামে ফিরে আসে এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে। তাই পূর্বপুরুষদের পরিচর্যা করা জীবিতদের দায়িত্ব। পাশাপাশি এই প্রথা নতুন প্রজন্মকে তাদের বংশপরিচয় ও ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়।
দেহ সংরক্ষণের কৌশল
অনেক দেহ বছরের পর বছর ভালোভাবে সংরক্ষিত রাখতে ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষণ পদ্ধতি ও আধুনিক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এই সংরক্ষণই মা’নেনে রীতিকে সম্ভব করে তুলেছে।
মা’নেনে (Ma’nene) রীতি আজও টোরাজা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের পর্যটক ও গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তবে টোরাজা জনগোষ্ঠীর কাছে এটি পারিবারিক ও আত্মিক দায়িত্ব।


