Aaj India desk, কলকাতা: ইঞ্জিনিয়ারিং (Engineering) মানেই কি শুধু কম্পিউটার সায়েন্স বা মেকানিক্যাল? রেশম চাষ থেকে শাড়ি তৈরির আধুনিক প্রযুক্তি , এগুলির পেছনেও রয়েছে প্রশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ারের(Engineering) ভূমিকা। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল প্রকাশের পর বহু পড়ুয়া যখন শাখা নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন, তখন সিল্ক টেকনোলজি হতে পারে এক ভিন্নধর্মী কিন্তু শিল্পসংযুক্ত বিকল্প।
পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার (WBJEE) মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং(Engineering) কলেজে ভর্তির সুযোগ মেলে। প্রচলিত শাখার বাইরে রাজ্যে সিল্ক টেকনোলজি (‘Silk Technology’)নামে বিশেষায়িত বি.টেক(B.Tech) কোর্স চালু রয়েছে গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেক্সটাইল টেকনোলজি -এ। চার বছরের এই স্নাতক কোর্সে ভর্তি হয় WBJEE র্যাঙ্কের ভিত্তিতে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, এই পাঠ্যক্রমে রেশম কীট পালন রিলিং ও রি-রিলিং ,ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং, ফ্যাব্রিক প্রোডাকশন , ডাইং ও ফিনিশিং প্রযুক্তি, টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, কাঁচা কোকুন থেকে প্রস্তুত শাড়ি বা সিল্ক ফ্যাব্রিক তৈরির প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তিগত জ্ঞান দেওয়া হয়।
ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান রেশম উৎপাদক দেশ। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সিল্ক শিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দেশীয় বাজার। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার মতো এলাকায় রেশম শিল্পের ঐতিহ্য রয়েছে। ফলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদের চাহিদা শিল্পক্ষেত্রে স্থায়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিল্ক টেকনোলজিতে স্নাতকরা টেক্সটাইল মিল, রেশম উন্নয়ন প্রকল্প, গবেষণা সংস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব এবং রপ্তানি সংস্থায় কাজের সুযোগ পান। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং(Engineering)বা ম্যানেজমেন্টে এগোনোর সুযোগ থাকে।
আসন সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়ায় কাউন্সেলিংয়ে সচেতন পছন্দ জরুরি। আবেদন করার আগে কোর্সের স্বীকৃতি, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো এবং প্লেসমেন্ট রেকর্ড যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইঞ্জিনিয়ারিং(Engineering) মানেই যে কেবল সফটওয়্যার নয়—রেশমের ঝলকানিতেও লুকিয়ে আছে প্রযুক্তির শক্ত ভিত, তা মনে করিয়ে দিচ্ছে এই বিশেষ শাখা।


