পৌলোমী ব্যানার্জী, কামরু: ভারতে হোলি মানেই রঙের উন্মাদনা। কিন্তু বাস্তবের আরেকটা দিকও আছে। প্রতি বছর দেশের নানা শহরে বহু মহিলা অভিযোগ করেন, হোলির দিন তাঁরা রাস্তায় বেরোলেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, কটূক্তি, জোর করে রং মাখানো—এসব অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই উৎসবকে তিক্ত করে তোলে।
“বুরা না মানো, হোলি হ্যায়”—এই কথাটাই অনেক সময় সীমা লঙ্ঘনের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে ভারতের হোলি নিয়ে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে শহুরে প্রেক্ষাপটে।
তবে সব জায়গার ছবি এক নয়। কামরুর (Kamru) হোলি সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। Sangla Valley-র পাহাড়ি গ্রাম কামরুতে (Kamru) উৎসবের রং মাখা হয় সম্মতির সঙ্গে, আনন্দ ভাগ করা হয় সমানভাবে।
এমনকি তাদের জন্য হোলি কেবল রঙের খেলা নয়, বরং সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।
কোথায় পালিত?
কামরু (Kamru) Fort-এর পাদদেশে পালিত এই উৎসবে স্থানীয় দেবতার পূজা, হোলিকা দহন এবং গ্রামবাসীদের ঐতিহ্যবাহী আচার বিশেষ গুরুত্ব পায়। মহিলারা, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে খোলামেলা অংশ নেন।
এমন কী বিশেষত্ব, যা সবাইকে চমকে দিচ্ছে?
কেউ জোর করে রং লাগায় না, কেউ অশালীন মন্তব্য করে না। গ্রামের প্রবীণদের তদারকি এবং সামাজিক শৃঙ্খলাই এখানে নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।
কোন দিক দিয়ে অন্যদের থেকে এগিয়ে?
দেশের অনেক প্রান্তে যেখানে হোলির দিন মেয়েরা বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, সেখানে কামরুর (Kamru) মেয়েরা রাস্তায় বেরিয়ে হাসিমুখে রং খেলেন। তাঁদের কাছে হোলি মানে আতঙ্ক নয়, অংশগ্রহণ।
এখানে ‘রং’ মানে কেবল আবির নয়, বরং আস্থা। ‘উৎসব’ মানে কেবল উল্লাস নয়, বরং দায়িত্ব।
কামরুর (Kamru) এই চিত্র হয়তো ভারতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে একটি ছোট উদাহরণ। কিন্তু বার্তাটা স্পষ্ট—হোলি তখনই সত্যিকারের উৎসব, যখন তা সবার জন্য নিরাপদ। নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মাঝেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে, আর কামরু সেই সম্ভাবনার বাস্তব উদাহরণ।


