Aaj India Desk, কলকাতা: সামনেই উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট, আর ঠিক তার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) হঠাৎ ভাইরাল এক বিস্ফোরক দাবি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নাকি আমূল বদলে যাচ্ছে শিক্ষা পদ্ধতি! প্রশ্ন উঠছে, এটা কি সত্যিই বড় কোনও সংস্কারের ইঙ্গিত, নাকি ইচ্ছে করে তৈরি করা বিভ্রান্তি?
এই ভাইরাল বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই ভাগে বিভক্ত নেটপাড়া। একদল বলছে, নতুন সিস্টেম চালু হতে চলেছে , পরীক্ষার ধরনে পরিবর্তন, এমনকি সিলেবাসেও নাকি বড়সড় রদবদল! অন্যদিকে, আরেকদল একে সরাসরি ‘ফেক’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
তবে সূত্রের খবর, এমন কোনও বড় সিদ্ধান্ত হলে তা কখনই হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ভাইরাল নোটিশে’ সামনে আসে না। সাধারণত বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণা, প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেই দিক থেকে দেখলে, এই ভাইরাল হওয়া বিজ্ঞপ্তির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কেন ঠিক রেজাল্টের আগেই এমন খবর ছড়াল?অনেকের মতে, এটা কেবল কাকতালীয় নয়। রেজাল্টের আগে ছাত্র ছাত্রীদের মানসিক চাপ চরমে থাকে আর সেই সময়েই এমন অর্ধসত্য বা ভুয়োখবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে হয়তো নজর ঘোরাতে, না হয় আলাদা কোনও ইস্যুকে চাপা দিতে।পরিস্থিতি যা বলছে, তাতে স্পষ্ট এই মুহূর্তে শিক্ষা পদ্ধতি বদলের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। বরং যাচাই না করেই খবর শেয়ার করার প্রবণতাই এই বিভ্রান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
১ এপ্রিল তারিখটা নিয়েই শুরু সন্দেহ! ঠিক ওই দিনই কাউন্সিলের নাম ও লোগো ব্যবহার করে একটি তথাকথিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দাবি করা হয়, ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক (HS) পরীক্ষায় নাকি নতুন পদ্ধতি বাতিল করে আবার পুরনো সিস্টেম ফিরিয়ে আনা হবে।বিজ্ঞপ্তিটি সামনে আসতেই মুহূর্তে তা ভাইরাল আর তার জেরেই পড়ুয়া ও অভিভাবক দের মধ্যে ছড়ায় চরম বিভ্রান্তি। কে ঠিক? কোনটা সত্যি? আদৌ কি বদল আসছে, নাকি সবটাই সাজানো নাটক?সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে সময়টাই ১ এপ্রিল!অনেকেই বলছেন, এটা নিছক এপ্রিল ফুল-এর ফাঁদ হতে পারে। আবার অন্য অংশের দাবি, কাউন্সিলের নাম-লোগো এত নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যে, এটাকে সম্পূর্ণ গুজব বলেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।তবে শিক্ষা মহলের একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের বড় সিদ্ধান্ত কখনওই হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞপ্তিই আসল তথ্যের উৎস।
ভাইরাল হওয়া ওই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল West Bengal Council of Higher Secondary Education। পরিষদের তরফে একেবারে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলের নাম ও লোগো ব্যবহার করে যে নোটিশটি ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর।
সংসদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে এই মুহূর্তে কোনওরকম পরিবর্তন বা নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো দাবি বা তথ্যে বিশ্বাস করার কোনও ভিত্তি নেই।একইসঙ্গে কড়া সতর্ক বার্তাও দিয়েছে সংসদ।যাচাই না করা তথ্য শেয়ার করবেন না,গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
ভাইরাল ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক বাড়তেই এবার কড়া অবস্থান নিল West Bengal Council of Higher Secondary Education। এই ভুয়ো নোটিশ তৈরি ও ছড়ানোর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই FIR দায়ের করা হয়েছে।বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ,শিক্ষা সংসদের স্পষ্ট বক্তব্য এই ধরনের ভুয়ো তথ্য শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও বড়সড় ধাক্কা দেয়। বিশেষ করে, বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের উপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মানসিক চাপ বাড়ে, তৈরি হয় অযথা আতঙ্ক।এখানেই থামছে না বিষয়টি। সংসদ আরও ইঙ্গিত দিয়েছে দোষীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


