Aaj India Desk, কলকাতা: গঙ্গার ঘোলা জলই বড় বাধা। অনেক চেষ্টা করেও স্পষ্ট ভাবে কিছু ধরা পড়ছে না ভিডিওতে। ফলে গঙ্গায় ওয়াটার ড্রোন (Underwater drone) ব্যবহার কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে পুলিশকর্তাদের মধ্যেই। সেই কারণেই এবার নতুন পথে হাঁটতে চাইছে লালবাজার (Lalbazar)। জলের নীচে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘আন্ডার ওয়াটার কমিউনিকেশন সিস্টেম’ (Underwater Communication System) – এর উপর।
কোনও ব্যক্তি গঙ্গায় তলিয়ে গেলে তাঁর খোঁজে নামেন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ডুবুরিরা। কিন্তু এতদিন জলের তলায় থাকা ডুবুরি এবং ডাঙায় থাকা নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বেশ সীমিত। এবার সেই সমস্যারই সমাধান করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। । নতুন ব্যবস্থায় জলের নীচে থাকা ডুবুরি এবং উপরে থাকা দলের মধ্যে সরাসরি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে যোগাযোগ সম্ভব হবে। শুধু গঙ্গাই নয়, শহরের বড় কোনও জলাশয়ের তলদেশে যদি দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় ঘটে, তা মোকাবিলাতে ও এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা করেছে লালবাজার (Lalbazar)।
এই সমস্ত আধুনিক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হবে কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ Disaster Management Group) – এর হাতে। প্রশাসনের আশা, নতুন প্রযুক্তি চালু হলে জলের নীচে উদ্ধার অভিযানে গতি যেমন বাড়বে, তেমনই ডুবুরিদের নিরাপত্তাও অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে পুলিশ সূত্রের খবর, পরীক্ষামূলকভাবে গঙ্গার একাধিক স্থানে ওয়াটার ড্রোন নামিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ড্রোনগুলি নদীর উপরিভাগ থেকে কয়েক মিটার গভীরে নেমে জলের তলার ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে। কিন্তু সেখানেই সামনে আসে বড় বাধা গঙ্গার ঘোলা জল।পুলিশকর্তাদের বক্তব্য, গঙ্গার জল এতটাই ঘোলা যে ড্রোনের ক্যামেরায় পরিষ্কার ছবি ধরা পড়েনি। এমনকি কয়েক মিটার দূরত্বে ঠিক কী রয়েছে, সেটাও স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়নি। ফলে জলের নীচে দৃশ্যমানতার অভাবই প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে গঙ্গায় কোনও উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ওয়াটার ড্রোন কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে এখনও সংশয়ে রয়েছে লোলবাজার (Lalbazar)-এর কর্তারা।


