24 C
Kolkata
Tuesday, March 24, 2026
spot_img

শিক্ষক সংকটের তালিকায় এবার খোদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় : ভোগান্তিতে সাংবাদিকতা বিভাগ !

Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিক্ষক সংকট এখন স্পষ্ট। প্রায় প্রতিটি স্কুল- কলেজেই নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম শিক্ষক রয়েছেন। এবার সেই সমস্যা উঠে এলো বাংলার অন্যতম খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Calcutta)।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Calcutta) সাংবাদিকতা বিভাগ ১৯৫৪ সালে ভারতের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দুই বছরের পোস্টগ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রদান করতো। ১৯৭১-৭৩ শিক্ষাবর্ষে এখানে এম.এ. প্রোগ্রাম চালু হয়। সম্প্রতি এই সাংবাদিকতা বিভাগের ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই বিভাগ প্রায় ধ্বংসপ্রায় অবস্থায়।

অনিয়মিত ক্লাস, বিলম্বিত ফলাফল

বর্তমানে বিভাগের মাস্টার্স কোর্সে শুধু একজন স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো প্রফেসর নিয়োগ না হওয়ায় বিভাগকে অতিথি (guest) লেকচারারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একাধিক ছাত্রছাত্রীর অভিযোগ, অনেক অতিথি লেকচারার নিয়মিত ক্লাস নেন না। আবার অনেক সময় একটি ক্লাস করিয়ে অনেকগুলি ক্লাসের সময় দেখিয়ে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। ফলত পাঠ্যক্রম যথাযথ সময়ে শেষ হয় না।

এই সমস্যার ফলে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা ও তার ফল প্রকাশেও যথেষ্ট বিলম্ব তৈরি হয়। এই বছরেও সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারের রেজাল্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। এর কারণে তৃতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভও প্রকাশ করছেন।

সময় ও অর্থের অপচয়

পাশাপাশি শিক্ষকের অভাবে বাঁকুড়া, আরামবাগের মতো দূরদূরান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা দিনে মাত্র দু-তিনটি ক্লাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। সেগুলোও প্রায়ই বাতিল হয়ে যায়। তৃতীয় সেমিস্টারের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপারে কোনো স্থায়ী শিক্ষক দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাস নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক ক্লাস বাতিল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।

প্রশাসনের উদাসীনতা প্রশ্নের মুখে

এই পরিস্থিতিতে অতিথি লেকচারারের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেনো নীরব এবং এক দশক ধরে নতুন প্রফেসর না নিয়োগের দায় কে নেবে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Calcutta) মত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের প্রফেসর ঘাটতি, অনিয়মিত ক্লাস এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার ফলে শিক্ষার মান ধাক্কা খাচ্ছে। সব মিলিয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য একেবারেই অনিরাপদ।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন