কলকাতা: রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটারাধিকারের জটের মীমাংসা এখন বিচারকদের টেবিলে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজে ব্যস্ত ২০২ জন জুডিশিয়াল অফিসার। যার জেরে আদালতের কাজ এখন শিকেয় ওঠার জোগাড়! এমনটাই মনে করছে, আদালতের সঙ্গে যুক্তদের একাংশ। এই ঘটনার বড়সড় প্রভাব পড়ল আরজি কর (RG Kar) দুর্নীতি মামলার বিচারে।
এসআইআরের (SIR) কাজে বিচারক ব্যস্ত থাকায় পিছিয়ে গেল চার্জগঠন। জানা গিয়েছে, বুধবার আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালতে এই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিচারক যুক্ত রয়েছেন এসআইআরের কাজে। তাই চার্জগঠনের পরিবর্তে প্রায় একমাস পিছিয়ে গেল শুনানি। আগামী ২৭ মার্চ এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করলেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক।
আখতারের পক্ষ থেকে অব্যাহতির আবেদন
জানা গিয়েছে, আরজিকরের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি (Akhtar Ali) অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআই আখতার এবং শশীকান্তকে অতিরিক্ত চার্জশিটে অভিযুক্ত দেখিয়েছে। এর আগে বারবার সমন পাঠানোর পরও আখতার হাজিরা দেননি। আদালতে অসুস্থতার আড়ালে জামিনের আবেদন খারিজ হয়, এবং ১০ ফেব্রুয়ারি আখতার আত্মসমর্পণ করে জেল হেফাজতে যায়। তবে ভারপ্রাপ্ত বিচারক চার্জগঠন এখনও করেননি। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৭ মার্চ।
বিপুল পরিমাণ কাজ বাকি
উল্লেখ্য, বঙ্গের এসআইআর জট নিরসনে জুডিশিয়াল সুপারভিশনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এই অল্পদিনে বিপুল পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করা কার্যত অসম্ভব বলে চিঠি দিয়েছিলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারক। প্রতিদিন ২৫০ টি করে নিষ্পত্তি করা হলেও সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে প্রায় ৮০ দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। হাতে বাকি মাত্র ৪ দিন! এই সময়ের মধ্যে কি ভাবে এই বিপুল পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হবে? মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে ঝারখন্ড, উড়িষ্যা, বিহারের বিচারকদের এই কাজে নিযুক্ত করা যাবে, জানায় শীর্ষ আদালত।


