Aaj India,কলকাতা:এবার খাস কলকাতায় ভোটের শতাংশ বাড়ানোই বড় লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের।সেই কথা স্পষ্ট করে জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO)মনোজ আগরওয়াল(Manoj Agarwal)।তিনি বলেন, কমিশনের লক্ষ্য শুধু গ্রামাঞ্চলে নয়, গোটা রাজ্যজুড়েই ভোটদানের হার বৃদ্ধি করা।তবে এই ক্ষেত্রে কলকাতাকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রত্যেক ভোটার যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে বুথে পৌঁছতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহর — সব জায়গাতেই সচেতনতা প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যত বেশি মানুষ ভোট দেবেন, ততই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোটের সামগ্রিক হারও বাড়বে।
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, কলকাতায় ভোটের শতাংশ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম থাকে, যা কমিশনের কাছে উদ্বেগের বিষয়। যদিও এবার সেই হার বাড়বে বলেই আশাবাদী তিনি। তাঁর কথায়, “এবার আশা করব মানুষ আরও বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে এগিয়ে আসবেন।” কমিশনের লক্ষ্য, কলকাতায় ভোটের হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে যাওয়া।
এই লক্ষ্য পূরণে বেশ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের কথা মাথায় রেখে তাঁদের সহজে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অ্যাপ-ক্যাব সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। যাতে শারীরিক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেউ ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কলকাতাই নয়, দেশের প্রায় সব বড় শহরেই ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশের মধ্যে ভোটদান নিয়ে অনীহা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ভোটের দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে দেখেন এবং ব্যক্তিগত কাজে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।
এছাড়াও, কলকাতার বহু মানুষ কর্মসূত্রে শহরের বাইরে বা অন্য রাজ্যে বসবাস করেন। ফলে ভোটের সময় তাঁদের পক্ষে শহরে ফিরে এসে ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। আবার অনেকে কলকাতায় ভাড়া থাকলেও তাঁদের ভোটার কার্ড বা স্থায়ী ঠিকানা গ্রামের বাড়িতে থাকে, যার ফলে শহরে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকে না।
আরও একটি বড় কারণ হল, কিছু ভোটার মনে করেন যে নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত, তাই তাঁদের একটি ভোটে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না। এর পাশাপাশি, কোথাও কোথাও অশান্তির আশঙ্কা বা বুথের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগও মানুষকে ভোট দিতে যেতে নিরুৎসাহিত করে।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের পর এবারের নির্বাচনে কলকাতায় ভোটের শতাংশ বাড়ানো নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিভিন্ন উদ্যোগ ও সচেতনতা প্রচারের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে বলেই আশাবাদী কমিশন।


