স্নেহা পাল, কলকাতা: কলকাতার সরসুনায় (Sarsuna) মঙ্গলবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল ৩৪ বছরের যুবক সানি সিংয়ের (Sunny Singh) দেহ। প্রথমে আত্মহত্যার দাবি করা হলেও, মৃতের দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে সানি সিংয়ের স্ত্রী পুনিতা সিং (Punita Singh) এবং তাঁর শ্যালক রাকেশ পাসওয়ানের (Rakesh Paswan) বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে সরসুনা থানার পুলিশ।
‘বাইরে থেকে বন্ধ’ ঘর ঘিরে রহস্য
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ থানায় একটি ফোন আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বাড়ির মেঝেতে সানি সিংয়ের (Sunny Singh) দেহ উদ্ধার করে। তাঁর গলায় ফাঁসের দাগ ছিল। সেই সময় স্ত্রী পুনিতা সিং (Punita Singh) দাবি করেন, তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশী কল্লোল হীরক জানান, ঘটনার সময় পুনিতা তাঁর মেয়ে তানিশা সিং (Tanisha Singh) সহ শোবার ঘরে আটকে ছিলেন এবং ঘরটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। প্রতিবেশীদের সাহায্যে তিনি বারান্দা দিয়ে নীচে নামেন এবং পরে মূল দরজার গ্রিল চাবি দিয়ে খোলা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার ইঙ্গিত
পুলিশ জানায়, কাঠের দরজাটি আধখোলা ছিল এবং আগেই এক ঝগড়ার সময় সেটির তালা ভেঙে গিয়েছিল। প্রতিবেশীদের কথা অনুযায়ী, বাড়ির ডাইনিং রুমে ঢুকে প্রতিবেশীদের সামনেই সানি সিংকে (Sunny Singh) সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পুনিতা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গলায় অসংলগ্ন লিগেচার মার্ক ছাড়া দেহে অন্য কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। দেহটি বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে (Vidyasagar State General Hospital) পাঠানো হলে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে কাঁটাপুকুর পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবেও ফাঁস দেওয়ার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক অশান্তি থেকে খুন?
তবে মৃতের দিদি সংগীতা শ (৩৯) অভিযোগ করেন, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুনিতা সিং (Punita Singh) ও রাকেশ পাসওয়ানের (Rakesh Paswan) বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারা (খুন) এবং ৩(৫) ধারা (অভিন্ন অভিপ্রায়) অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সানি ও পুনিতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল এবং গত ডিসেম্বরে পুনিতা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। সোমবার রাতেও দু’জনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয় যার ফলে স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির বাইরে বার করে দিয়েছিলেন নিহত সানি সিং (Sunny Singh)। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে সমস্ত দিক অনুসন্ধান করছে পুলিশ।


