31.7 C
Kolkata
Friday, February 27, 2026
spot_img

কলকাতায় আচমকা ভূমিকম্প! কেঁপে উঠল শহর !

Aaj India Desk, কলকাতা : একদিন আগে সিকিমের গ্যাংটকে কম্পন (Earthquake) অনুভূত হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিট নাগাদ আবার কেঁপে উঠল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। পরপর ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে ভূকম্পনের প্রবণতা বাড়ছে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের খুলনাকে কেন্দ্র করে উৎপন্ন ভূমিকম্পের (Earthquake) জেরেই কলকাতায়ও কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)-এর তথ্য বলছে, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৪ এবং গভীরতা প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। খুলনা এলাকায় স্থানীয়ভাবে কম্পনের মাত্রা প্রায় ৫ ছিল বলে জানা গেছে।

কলকাতার একাধিক বহুতল ভবনে দুলুনি টের পান বাসিন্দারা। অনেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খোলা জায়গায় নেমে আসেন। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও আতঙ্ক ছিল স্পষ্ট।

বাড়ছে ভূমিকম্পের সংখ্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় উপমহাদেশ ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ভারত ও গঙ্গা অববাহিকা টেকটোনিক ফল্ট লাইনের প্রভাবে সংবেদনশীল। গ্যাংটক বা সিকিম অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প (Earthquake) নতুন নয়। তবে একের পর এক কম্পনের খবর সামনে এলে উদ্বেগ বাড়ে।

ভূতত্ত্ববিদরা জানাচ্ছেন, পৃথক ভূমিকম্পের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকে না অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। টেকটোনিক প্লেটের স্বাভাবিক নড়াচড়ার ফলেই এই কম্পন ঘটে। তা সত্ত্বেও ধারাবাহিক ঘটনায় মানুষের মধ্যে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কলকাতা কতটা ঝুঁকিতে?

কলকাতা সিসমিক জোন-III তে অবস্থিত, অর্থাৎ মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। ৫ মাত্রার আশেপাশের ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধ্বংস ডেকে আনে না, তবে পুরনো ও দুর্বল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত নগরায়ণ এবং বহুতল বৃদ্ধির ফলে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ভবিষ্যৎ কী বলছে?

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ঘন ঘন ভূমিকম্প মানেই বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে প্রস্তুতি, বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

ভূমিকম্প সম্পূর্ণভাবে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। তাই সচেতনত থেকে দুর্যোগ মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন