Aaj India desk, কলকাতা: দু’দিন ধরে গলায় ব্যথা, খেতে গেলেই অস্বস্তি। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ গলাব্যথা বলেই মনে হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের কিন্তু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষায় সামনে আসে অন্য চিত্র—একটি পিন কিশোরীর শ্বাসনালিতে আটকে রয়েছে। পরে দ্রুত চিকিৎসকদের উদ্যোগে সেটি বের করে আনা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Kolkata medical college)।
সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরী নাজদা পারভিন কলকাতার বৌবাজার এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনাবশত একটি পিন গিলে ফেলে সে। তবে সেই সময় তার কোনও শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়নি। ফলে পরিবারের কেউই বুঝতে পারেননি যে শ্বাসনালিতে কোনও বস্তু আটকে থাকতে পারে।
পরের দিন থেকেই তার গলায় ব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে খেতে বা কিছু গিলতে গেলেও সমস্যা হচ্ছিল। পরিস্থিতি বুঝে বুধবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের (Kolkata medical college) জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
চিকিৎসকেরা উপসর্গ শুনে প্রথমে এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে, একটি পিন কিশোরীর শ্বাসনালিতে আটকে রয়েছে।
বিষয়টি ধরা পড়তেই চিকিৎসকেরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। বৃহস্পতিবার সকালে রিজিড ব্রঙ্কোস্কপি পদ্ধতিতে শ্বাসনালি থেকে পিনটি সফলভাবে বের করে আনা হয়।
এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের(Kolkata medical College) ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় এবং অ্যানাস্থেসিয়োলজি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশিস ঘোষ। চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে কোনও জটিলতা এড়াতে তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত ছোট বস্তু গিলে ফেললেও তা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না, বিশেষ করে যদি শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ না থাকে। তাই গলায় অস্বাভাবিক ব্যথা বা খেতে সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
সময়মতো হাসপাতালে (Kolkata medical college) নিয়ে আসায় এবং দ্রুত চিকিৎসার ফলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ।


