কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে যৌনপল্লির (Sonagachi) বাসিন্দাদের মধ্যে বিশেষ আতঙ্ক ভর করেছিল। একবিংশ শতাব্দীতেও সমাজ থেকে যারা ব্রাত্য, ভোটার তালিকা থেকেও পাছে ব্রাত্য না হয়ে যান। যৌনকর্মীদের নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরে ‘আমরা পদাতিক’-সহ তিনটি সংগঠন সরাসরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি দেয়।
সেই চিঠির জেরেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন এবং সোনাগাছিতে (Sonagachi) বিশেষ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। রামবাগান, কদমতলা ক্লাব এবং শীতলা মন্দির এই তিন জায়গার শিবিরে মোট ৮০৩ জন অংশগ্রহণ করেন, বলে কমিশন সূত্রে খবর। শিবিরে উপস্থিত হয়েছিলেন খোদ রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। তাঁদের মধ্যে ২১০ জন ফর্ম–৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করেন। পাশাপাশি ফর্ম–৮ জমা পড়ে মোট ৫১ টি এছাড়াও এবং ১২ জন এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে। তবে এখনও অনেকের নথিপত্র সংক্রান্ত জট কাটেনি বলে জানা গিয়েছে।
কতজনের নাম বাদ?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শেঠবাগান ও দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট মিলিয়ে মোট ১২ জনের নাম এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (SIR final voter list) “বিবেচনাধীন” রয়েছে। এছাড়া তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বাদ বা “ডিলিটেড” হয়েছে ৩ জনের নাম। প্রসঙ্গত, সোনাগাছিতে প্রায় ১০ হাজার যৌনকর্মীর মধ্যে ৩ হাজার সেখানে গিয়ে কাজ করে বাড়ি ফিরে যান। বাকিরা সোনাগাছিতেই (Sonagachi) স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
বলা বাহুল্য, রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম “বিবেচনাধীন”-এর খাতায়। সেই তুলনায় বিশেষ শিবির আয়োজনের ফলে সোনাগাছিতে ডিলিটেড বা বিবেচনাধীন-এর সংখ্যা অনেকটাই কমানো গিয়েছে বলে ধারণা বিভিন্ন মহলের।


