Aaj India Desk, কলকাতা: ভবানীপুরে শক্তি প্রদর্শনে নামল বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশকে ঘিরে হাজির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেখান থেকেই তাঁর ঘোষণা -‘আগামী ১৫ দিন আমি এখানেই থাকব’। পালটা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। তাদের পরামর্শ, ‘বাংলায় যখন এসেছেন, তখন মুড়িঘণ্ট, পাবদা, ইলিশ ভাপা, চিংড়ি মালাইকারির মতো বাঙালির জম্পেশ পদগুলো চেখে দেখতে ভুলবেন না!’ -ইঙ্গিত যে রাজনৈতিক, তা বুঝতে অসুবিধা নেই।
ভোটের বাংলায় এবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাসও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিহারের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। বুধবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞার জনসভা থেকে তাঁর অভিযোগ, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ খেতে দেওয়া হয় না, মাছের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, পোয়াতি মহিলারাও ডিম খেতে পারেন না।’ একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘বাঙালি মাছে-ভাতে বাঁচে, সেই জায়গায় আঘাত করতে আসবেন না।’
অন্যদিকে, তৃণমূলের এই প্রচারের জবাব দিতেও পিছিয়ে নেই বিজেপি। ‘নিরামিষ’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে মাঠে নেমেছেন দলের নেতারা। বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী তথা চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে সম্প্রতি কাতলা মাছ হাতে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপিকে নিয়ে ভুল প্রচার করা হচ্ছে। আমরা মাছ-মাংস সবই খাই। বরং তৃণমূলের শাসনে মানুষ এতটাই গরিব হয়ে গিয়েছে যে অনেকেই মাছ কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বারবার আশ্বস্ত করেছেন, বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।
এদিকে শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাট-হাজরা চত্বর। হাজরার সভা শেষে রোড শো করে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মিছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে পৌঁছতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। পালটা জবাব দেয় বিজেপি কর্মীরাও, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে হাজরার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, গোটা বাংলার মুক্তির জন্য ভবানীপুর থেকে আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন। বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পরিবর্তন প্রয়োজন। ভবানীপুরবাসীর কাঁধেই রয়েছে সেই দায়িত্ব’।


