কলকাতা: ছাইয়ের গাদা থেকে উঁকি দিচ্ছে মানুষের দেহাংশ। আনন্দপুরের (Anandapur Fire) নাজিরাবাদ জোড়া গুদাম যেন ছিল এক জতুগৃহ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। নিখোঁজ প্রায় ২৩-এরও বেশি। স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্না আর নিখোঁদের পরিবারের উদ্বেগ ওই ছাইয়ের গাদা থেকে উঠে প্রশ্ন করছে একটাই—প্রশাসনের ভূমিকা!
এমতাবস্থায় নাজিরাবাদে ভস্মীভূত গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ডেকরেটর্স গুদামের পাশের মোমো কোম্পানির গুদামের মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও তাদের প্রেফতার করা হয়নি।
৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়
প্রসঙ্গত, রবিবার ভোর ৩ টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের জোড়া গুদামে আগুন লাগে (Anandapur Fire)। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৩৮ ঘন্টা ধরে জ্বলতে থাকে সেই আগুন। বাড়তে থাকে নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা। ঘন্টার পর ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও একটিও সম্পূর্ণ দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। ছাইয়ের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে শুধু দেহাংশ আর হাড়গোড়। সেগুলিকে মর্গে পাঠানো হলেও পরিচয় জানতে এখনও সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়। প্রশ্ন উঠছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কিনা, সেই নিয়েও। অন্যদিকে, দমকলের (Fire Brigade) অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় দায়ের করা গাফিলতির অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া থেকে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও, আগুন লাগার দায় মোমো কোম্পানির ঘাড়ে চাপিয়েছেন ডেকরেটর্স গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস।
দমকলের তরফে ছিল না অনুমোদন
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দমকল (Fire Brigade) বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। তাই অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে গুদাম চলছিল সেই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে, জলাভূমি ভরাট করে ওই গুদাম তৈরি হয়েছে, দাবী উঠলে মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “২০০০, ২০০৬ সালে জলাভূমি ভরাট হয়েছিল। নতুন করে কোনও জলাভূমি ভরাট হচ্ছে না।”


