Aaj India desk, কলকাতা: দোলের রঙ(Holi Festival) এখনও শুকোয়নি। কিন্তু রঙের আড়ালে কি অন্য ছবি? দক্ষিণ কলকাতার হৃদয়ে অবস্থিত রবীন্দ্র সরোবর–এর ভেতরে দোলের দিন হঠাৎ করে একটি অস্থায়ী ‘ক্লাব’ খোলা এবং সেখানে জোরদার আড্ডা–উল্লাস ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এই আয়োজন চলেছে দিনের পর দিন। ঘটনার সূত্রপাত দোলের(Holi Festival) সকালেই।
দাবি করা হচ্ছে, সরোবরের একটি নির্দিষ্ট প্রান্তে সাউন্ড সিস্টেম, অস্থায়ী ব্যানার ও বসার ব্যবস্থাসহ একটি ক্লাবঘর সদৃশ কাঠামো গড়ে ওঠে। বিকেলের পর থেকে সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়। যেরকম জোরে গান চালানো, রঙ খেলায় (Holi Festival) মেতে থাকা মানুষ এবং ভেতরে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির বক্তব্য, সরোবর এলাকা ‘নো-লাউডস্পিকার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষত উৎসবের দিনগুলিতে পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ আগেই ছিল। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে এই আয়োজন কীভাবে অনুমতি পেল? আদৌ কি অনুমতি ছিল?
এদিকে প্রবীণ বাসিন্দারা বলে ওঠেন “প্রতি বছরই দোলের সময় কিছু না কিছু বাড়াবাড়ি হয়। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে ক্লাব খোলা এবং উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান—এটা আগে দেখিনি।”
অন্যদিকে আয়োজকদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এটি ছিল ‘বন্ধুদের প্রাইভেট গেট-টুগেদার’, কোনও বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান নয়।
কোনো সূত্রে অবশ্য স্পষ্ট বক্তব্য মেলেনি। এক পুলিশ আধিকারিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুমতি সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হবে। যদি নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ মেলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে অনুমতি ছাড়াই অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। পরিবেশ আদালতের নির্দেশে সরোবর এলাকায় শব্দদূষণ রুখতে আগেই কড়া নজরদারির কথা বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এমন ঘটনা কি প্রশাসনিক শিথিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে? নাকি উৎসবের আবেগে নিয়ম কিছুটা শিথিল হয়েছিল?
রঙের উৎসবের (Holi Festival) আনন্দের মাঝেই তাই বড় প্রশ্ন—নিয়ম সবার জন্য সমান, নাকি কিছু ক্ষেত্রে চোখ বন্ধ থাকে? উত্তর খুঁজছে শহর।


