সল্টলেকের করুণাময়ীতে চলছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা (Kolkata International Bookfair)। প্রতিদিন হাজার হাজার পাঠকের সমাগমে মুখর সেই প্রাঙ্গণ। কিন্তু সেখানেই ব্রাত্য সাধারণ শিল্পীরা। ‘নিষিদ্ধ বস্তু’ বিক্রির অভিযোগে গত দু’বছর ধরে বইমেলার মূল পরিসর থেকে বাদ পড়েছেন বহু হস্তশিল্পী। তাই গেট নম্বর ৫ এর বাইরে ফুটপাথেই বসেছে সেই শিল্পীদের আরেকটি মেলা।
এই জায়গা তাঁদের পছন্দের নয়, বরং বাধ্যতামূলক আশ্রয়। শিল্পীদের অভিযোগ, পাবলিসার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড তাঁদের বিরুদ্ধে ‘নিষিদ্ধ বস্তু’ বিক্রির অভিযোগ তুলেছে। এই অভিযোগে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ শিল্পী মহল। আতর বিক্রেতা গোষ্ঠী ‘সোঁদা’ এবং শিল্পী গোষ্ঠী ‘আদরে আখরে’র কর্মীরা প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তাঁদের পণ্যে নিষিদ্ধ কিছু থাকলে তা প্রমাণ করা হোক।
এই আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছেন শালিনী ঘোষ। প্রায় এক দশক ধরে বইমেলায় হাতে তৈরি খাতা বিক্রি করছেন তিনি। তাঁর কাছে সরকারি কারুশিল্পী পরিচয়পত্র রয়েছে। শালিনী জানান, কোনও লিখিত বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে গত বছর এবং এ বছর স্টল দেওয়া হয়নি। শিল্পীদের অনেকেই সরকারি আর্ট কলেজ ও বিশ্বভারতীর প্রাক্তন বা বর্তমান ছাত্র। তাঁদের দাবি, বইমেলার সঙ্গে শিল্প ও হস্তশিল্পের সম্পর্ক নতুন নয়। বইয়ের পাশাপাশি এই শিল্পীরাই বইমেলার সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতেন।
২৭ জানুয়ারি রাতে আরও একটি ধাক্কা আসে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পর, পরদিন সকালে শিল্পীরা ফিরে দেখেন তাঁদের স্টল ভাঙচুর করা হয়েছে। তবুও তাঁরা হাল ছাড়েননি। যদিও এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন লেখক, শিল্পী ও পাঠকদের একাংশ।
এ বিষয়ে গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণেই শিল্পীদের ফুটপাথে বসতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, অতীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ছিল। ভিড়ের কারণে পথচারীদের অসুবিধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, চলতি বছরে কোনও শিল্পীর কাছ থেকে স্টলের আবেদনও পাওয়া যায়নি।
তবে শিল্পীদের বক্তব্য, অভিযোগ ও সিদ্ধান্তের মাঝখানে কোথাও তাঁদের কথাই শোনা হয়নি। বইমেলার ভেতর থেকে বাদ পড়লেও, তাঁরা বিশ্বাস করেন বইমেলা শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়, এটি শহরের শিল্প ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র।


