স্নেহা পাল, কলকাতা: এখনও জ্বলছে আগুন! নিখোঁজ শ্রমিকের সংখ্যা ৩ থেকে বেড়ে আপাতত ৬-এ দাঁড়িয়েছে! দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছে তাঁদের পরিবার। রবিবার গভীর রাতে কলকাতার আনন্দপুরের (Anandapur) নাজিরাবাদ রোডে একটি নামজাদা মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
রাত দেড়টায় আগুন, সন্ধান মেলেনি কর্মীদের
দমকল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ আনন্দপুর থানা (Anandapur Police Station) এলাকার ওই মোমো কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে একে একে ১২টি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে কারখানাটি মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা হওয়ায় ভেতরে বিপুল পরিমাণ পাম তেল (Palm Oil), প্যাকেটজাত দাহ্য সামগ্রী এবং গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল, ফলে সেখানে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দমকল আধিকারিকদের দাবি, কারখানার পিছনের দিকে থাকা একটি আবাসিক এলাকা থেকে প্রায় ১০০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে গোডাউনের ভেতরে থাকা কর্মীদের এখনও উদ্ধার করা যায়নি। নিখোঁজ কর্মীদের ফোন সুইচড অফ থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
প্রথমে তিন জন নিখোঁজ বলা হলেও পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে। আরোও কর্মী ভিতরে রয়েছেন কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। দমকলের এক আধিকারিক বলেন, “আগুনের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দাহ্য সামগ্রীর কারণে উদ্ধারকাজেও সমস্যা হচ্ছে।”
শর্ট সার্কিটে আগুনের আশঙ্কা
দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। অন্যদিকে কারখানায় যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে এত বেলা পর্যন্তও আগুন লাগার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও ওই কারখানায় ছোটখাটো আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। এক বাসিন্দা বলেন, “বারবার সতর্ক করা হলেও মালিকপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি।”
নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিবেশ। এক কর্মীর আত্মীয় জানান, আগুন লাগার সময় ফোনে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়ার কথা বলেছিলেন ওই কর্মী। তারপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
দমকল আগুনের কেন্দ্রে পৌঁছতে না পারা পর্যন্ত নিখোঁজ কর্মীদের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন আধিকারিকরা।


