Aaj India Desk,কলকাতা: বিধানসভা ভোট(Election Assembly) আর তার জেরেই কি থমকে গেল পরীক্ষা? এই প্রশ্নেই এখন তোলপাড় ছাত্রমহল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta)-এর স্নাতক স্তরের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা হঠাৎ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, ১৩ এপ্রিলের পর নির্ধারিত সমস্ত পরীক্ষা আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন (Election Assembly)। কিন্তু এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন ভোটের জন্য কি পড়াশোনার সময়সূচি বলি দেওয়া হচ্ছে?যদিও এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ বহু পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, আগে থেকে কোনও স্পষ্ট প্রস্তুতি বা বিকল্প পরিকল্পনা না দিয়েই এমন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে পড়ুয়ারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায় কখন পরীক্ষা হবে, কীভাবে হবে, কিছুই স্পষ্ট নয়।এদিকে, এই ইস্যুতে সরব হয়েছে All India Democratic Students Organisation-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই ভোটকে অজুহাত করা হচ্ছে , শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় ,পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে প্রশ্নটা শুধু পরীক্ষা স্থগিত নয়, শিক্ষা বনাম নির্বাচন কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
শেষমেশ বিতর্কটা স্পষ্ট এটা কি সত্যিই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত? নাকি পড়ুয়াদের স্বার্থ উপেক্ষা করে নেওয়া একতরফা পদক্ষেপ?জেলা স্তর থেকেই এবার সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল। All India Democratic Students Organisation-র জেলা সম্পাদক মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, কলেজগুলোকে নির্বাচনী ডিউটির জন্য সেনা বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পে পরিণত করাতেই তৈরি হয়েছে এই অচলাবস্থা। তাঁর কটাক্ষ,”ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কি তবে নির্বাচনের সুবিধার জন্যই বলি দেওয়া হচ্ছে?”এই মন্তব্য ঘিরে আরও জোরালো হয়েছে বিতর্ক অনেকেরই মত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করাটা শুধু পড়াশোনার ক্ষতি নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করছে। শিক্ষা মহলের একাংশের প্রশ্ন যখন বিকল্প সরকারি জায়গা রয়েছে, কেন স্কুল-কলেজকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে?এখানেই শেষ নয়, নতুন করে সামনে এসেছে আরও বড় সমস্যা। ছাত্র নেতৃত্বের দাবি, University Grants Commission-এর নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরুই হয়েছিল প্রায় ৮ মাস দেরিতে। এখন আবারও তা স্থগিত হওয়ায় দ্বিতীয় সেমেস্টার নিয়েও তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।
এই মুহূর্তে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta)-এর অধীনস্থ কলেজগুলোতে তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা চললেও, ভিতরে ভিতরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত অচলাবস্থা। একদিকে পরীক্ষা, অন্যদিকে নির্বাচন আর মাঝখানে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যেন ঝুলে রয়েছে দোদুল্যমান অবস্থায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই একাধিক কলেজ কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দখলে চলে গেছে ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে। ফলে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ক্লাসরুম, সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, এমনকি পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক সবই সংকটে।১০, ১১ ও ১৩ এপ্রিল হোম সেন্টারে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও, ১৩ এপ্রিলের পর থেকে যে অ্যাওয়ে সেন্টার-এ পরীক্ষার সূচি শুরু হওয়ার কথা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যে কলেজ গুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার কথা, তার অনেকগুলোই এখন ভোটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।আরও বড় ধাক্কা কলেজের শিক্ষক ও কর্মীদের একাংশকেও নির্বাচন কমিশনের কাজে টেনে নেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষার হলে নজরদারি বা গার্ড দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল জোগাড় করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ সমিতির সম্পাদক মানস কবির মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে,”কমিশন যে সময়সূচি নির্ধারণ করেছে, তাতে পরীক্ষা চালানো সত্যিই কঠিন হয়ে উঠত। সেই দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষক ও কর্মীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।” তবে এখানেই দ্বন্দ্বটা স্পষ্ট প্রশাসনের কাছে এটা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হলেও , পড়ুয়াদের চোখে এটা অপ্রস্তুত ও আকস্মিক ধাক্কা ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে নির্বাচনের চাপে কি আবারও পিছিয়ে পড়ল শিক্ষা?


