Aaj India desk, কলকাতা: পুলিশে চাকরি (Police job) পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস, লালবাজারে কাজ করার দাবি— আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ কলকাতার সরশুনা এলাকায়।
অভিযোগকারী মৌসুমী শাসমল জানিয়েছেন, “গত বছর তাঁর ছেলেকে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই ব্যক্তি। নিজেদের পরিচয় দেয় পুলিশকর্মী হিসেবে। শুধু তাই নয়, তারা দাবি করে যে তারা লালবাজারে কর্মরত এবং কলকাতা পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ‘ব্যবস্থা’ করতে পারবে”।
এই আশ্বাসেই শুরু হয় টাকার লেনদেন। অভিযোগ, প্রথমে চাকরির ব্যবস্থা করার নাম করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। কিছুদিন পর আবার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বলে একটি কাগজ দেখিয়ে আরও প্রায় ৩৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তখনও সন্দেহ করেননি মৌসুমী দেবী।
এরপর আবার নতুন প্রস্তাব। জানানো হয়, চাইলে ছেলেকে আরও বড় পদ— সাব-ইনস্পেক্টর— করানো সম্ভব। তবে তার জন্য আরও ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে।
অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হয় যে চাকরি না হলে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
কিন্তু সময় কেটে গেলেও চাকরির (Police job) কোনও খবর না পাওয়ায় সন্দেহ বাড়তে থাকে। তখনই অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চান অভিযোগকারী।
প্রথমে একটি চেক দেওয়া হলেও পরে সেটি বাউন্স করে। এরপর অনলাইনে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকার আর হদিস মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সরশুনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৌসুমী শাসমল। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে Saumen Saha এবং Biswanath Saha-র নাম।
এ ঘটনায় সরশুনা থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর মেলেনি।
পুলিশ (Police job) যে সমাজের নিরাপত্তার প্রতীক, সেই ইউনিফর্মকে আমরা নাগরিক হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যখন সেই পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, তখন আস্থার ভিত কেঁপে ওঠে। প্রশ্ন জাগে, কারা এই ছদ্মবেশের আড়ালে কাজ করছে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী (Police job) বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা এখন যেন নতুন কৌশল হয়ে উঠছে।
বিশ্বাসের জায়গাটাই যদি ভেঙে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
পুলিশের পোশাককে ব্যবহার করে অপরাধের এই প্রবণতা সত্যিই উদ্বেগের।
চাকরির স্বপ্ন (Police job) দেখিয়ে কারও জীবন নিয়ে খেলা চলবে কতদিন? ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কড়া নজরদারির দাবি উঠছে।


