Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে ধারাবাহিক রদবদল চলছে। এবার একসঙ্গে পাঁচজন ডিআইজি (DIG) পদে বদলি করল নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক রদবদলের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে যে এই পরিবর্তনে কি সত্যিই বদলাবে মাঠের পরিস্থিতি, নাকি পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে পুরনো অভিযোগ থেকেই যাবে ? এই ডিআইজি বদলির সিদ্ধান্তের পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৯ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজিদের বদলি করা হয়েছে। নতুন নিয়োগ অনুযায়ী, রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন রাঠোর অমিত কুমার ভারত (২০০৯ ব্যাচের আইপিএস), মুর্শিদাবাদে অজিত কুমার যাদব, বর্ধমানে শ্রীহরি পাণ্ডে, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে কঙ্কর প্রসাদ বারুই এবং জলপাইগুড়িতে অঞ্জলি সিং। কমিশনের নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই পাঁচজন আধিকারিককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
ক্রমাগত রদবদল
১৫ মার্চ নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক বদলির গতি বেড়েছে। ওইদিনই সরিয়ে দেওয়া হয় মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। ১৬ মার্চ বদলি করা হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, এডিজি (ল’ অ্যান্ড অর্ডার) এবং ডিজি (কারাগার)। ১৭ মার্চ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের এডিজি, চারজন পুলিশ কমিশনার এবং ১২ জন পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়। এর পরপরই DIG স্তরে এই নতুন রদবদল কার্যকর করা হল।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরূপ প্রতিক্রিয়া
শুধুমাত্র পদাধিকারী বদলালেই বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এই ধারাবাহিক বদলিকে কেন্দ্র করে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সমবায় ফেডারেল কাঠামোর পরিপন্থী।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য নিরপেক্ষ ও নির্ভয় নির্বাচন নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ায় দলের কোনও ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সাধারণত নির্বাচন ঘোষণার পর প্রশাসনিক রদবদল নতুন নয়। তবে এত দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ স্তর থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বদলি বিরল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাঁদের মতে, DIG সহ বাকি কর্মকর্তাদের বদলি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হলেও, বাস্তবে তার প্রভাব নির্ভর করে প্রশাসনিক নির্দেশের বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সামগ্রিক তদারকির উপর। ফলে এই ধারাবাহিক রদবদল ভোটের মাঠে বাস্তব পরিবর্তন আনবে নাকি পুরনো বিতর্কই আবার সামনে আসবে তা স্পষ্ট হবে নির্বাচনের দিনগুলিতেই।


