কলকাতা: চম্পাহাটির (Champahati) বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে হাসপাতালেই মৃত্যু হল একজনের। শনিবার বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থানার চম্পাহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাড়াল। ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন ৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জনেরই দেহের অধিকাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আহতদের কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু শনিবার গভীর রাতে এম আর বাঙুর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় নামক এক আহতের। হাসপাতালের তরফে জানা গিয়েছে, তাঁর দেহের ১০০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। বাকি ৩ জন আহতের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন কিসান অধিকারী। তিনি বর্তমানে এম আর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পঞ্চসায়র থানার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বিশ্বজিৎ মন্ডল ও রাহুল। রাহুলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
বাজি তৈরির লাইসেন্স নিয়ে সন্দেহ
এর আগেও চম্পাহাটির (Champahati) বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাড়িতে মজুত করে রাখা বাজি ফেটে মারা যান ৮ জন। এছাড়াও এগরা, দত্তপুকুর, বজবজে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ বাজি কারখানায় প্রাণহানির ঘটনা সামনে উঠে এসেছে। ২০২৬-এর দীপাবলির ঠিক আগে অবৈধ বাজি উদ্ধারে ব্যাপক সক্রিয়তা দেখিয়েছিল পুলিশ। তা সত্ত্বেও ফের এই চম্পাহাটিতে এমন বিস্ফোরণ।
পুলিশ সূত্রে খবর, হাড়ালের ওই বাজি কারখানার মালিক বিধান নস্করের কাছে বাজি মজুত ও বিক্রির লাইসেন্স ছিল। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই বাজি কারখানা চলছে। এমনকি কারখানাটি বেআইনি বলেও দাবী করেছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, কারখানার পেছনে বিপুল পরিমাণ শব্দবাজি তৈরি হতেও দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাজি কারখানার মালিক বিধান নস্করের কাছে কি আদৌ বাজি তৈরির লাইসেন্স ছিল? ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


